
নয়া দিল্লি: তৃণমূলের (TMC) সংসদীয় দলে ভাঙন। ইস্তফা দিলেন সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy)। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। আজ দিল্লিতে উপরাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, দল ছাড়ার কথাও ঘোষণা করেছেন সুখেন্দুশেখর (Sukhendu Sekhar Roy Resigns)। দিল্লিতে সংবাদমাধ্য়মের মুখোমুখি হলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন। সুখেন্দুশেখরের অভিযোগ, দলে তাঁকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল।
রাজ্যসভার (Rajyasabha) সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন সুখেন্দু শেখর , তা নিয়ে আগের থেকেই জল্পনা চলছিল। আজ সকালেই দিল্লিতে উপরাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছন তিনি। পদত্য়াগপত্র জমা দিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দল ছাড়ার কথাও ঘোষণা করেন। এবার কি তিনি অন্য দলে যোগ দেবেন? সেই প্রশ্ন অবশ্য জিইয়ে রাখলেন সুখেন্দু শেখর। তিনি এও জানিয়েছেন, রাজনীতি করবেন কি না তা ভেবে দেখবেন।
তৃণমূলের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। সুখেন্দুশেখর বলেন, “এই দল মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। একের পর এক দুর্নীতি ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে আমাদের রাজ্যে। যখন দল ক্ষমতায় এল রাজ্যে, তখন প্রথম বৈঠক হল কালিম্পঙের ডেলো পাহাড়ে। সেখানে চিটফান্ডের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে। তারপর চিত্র প্রদর্শনী হচ্ছে। সেই আঁকা ছবিগুলি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকায়। কেউ তাঁকে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির সঙ্গে তুলনা করছেন। দুর্নীতি তো শুরু তখন থেকেই।” অর্থাৎ নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই আক্রমণ করলেন তিনি।
সুখেন্দু শেখরের আরও দাবি, “দলের তো কোনও আদর্শ ছিল না, একটা কর্মসূচি ছিল। সিপিএমকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসা। ক্ষমতায় এসে ক্ষমতার অপব্যবহার করা, লুটপাঠ করা…এটাই যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, সেটা আমরাও বুঝতে পারিনি, মানুষও বুঝতে পারেনি। যতদিন গেল দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা নিল। ভারতের রাজনীতিতে যখনই প্রশাসক মানুষের ভাষা বুঝতে অক্ষম হয়, তখন তার পতন অনিবার্য।”
আর জি কর নিয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন সুখেন্দুশেখর। বলেন, “দলে কোণঠাসা ছিলাম। অস্বস্তিতে ছিলাম। আমি তো আরজি কর নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলাম। ধর্না দিয়েছিলাম। মানুষ চেয়েছিলেন একটা বিহিত হোক। আমার অপরাধ, আমি পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্তের দাবি করেছিলাম। কারণ, আমি এখনও মনে করি ঘটনার প্রমাণ লোপাটে তাদের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি।” এদিকে, সূত্রের খবর, রাজ্যসভার আরও এক সাংসদ আজ ইস্তফা দিতে পারেন।
উল্লেখ্য, রাজ্য বিধানসভায় ভাঙন ধরেছে। বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন ব্লক। আর এই নতুন ব্লকের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকেই বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে। এদিকে, সূত্রের খবর, লোকসভাতেও নতুন ব্লক তৈরি হতে পারে। লোকসভায় ‘বিক্ষুব্ধ’ তৃণমূল সাংসদদের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দিল্লিতে গোপন বৈঠক শুরু করেছেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা।