
নয়াদিল্লি: তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক। বাংলায় পালাবদলের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সিআইডি তাঁকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। সেই জিজ্ঞাসাবাদে প্রশ্ন এড়াতে নিজের পদবির বানানকে কি অজুহাত হিসেবে খাড়া করছেন সুমিত রায়? বুধবার সুপ্রিম কোর্টে সেই প্রশ্নই উঠল। রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে সুমিতের বিরুদ্ধে পদবির বানানকে অজুহাত করে প্রশ্ন এড়ানোর অভিযোগ করলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
এদিন শীর্ষ আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ব্যাঙ্কের রেকর্ডে কোনও জায়গায় লেখা সুমিত RAY। কোথাও লেখা সুমিত ROY। সলিসিটর জেনারেল নিজের সওয়ালে অভিযোগ করেন, পদবির এই বানান দেখিয়ে দুই ব্যক্তি এক নয় বলে অজুহাত দেখিয়ে জেরায় প্রশ্ন এড়াচ্ছেন সুমিত। সেজন্যই সুমিত রায়কে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জেরা করতে চায় বলে প্রধান বিচারপতির এজলাসে আবেদন করেন তুষার মেহতা।
তুষার মেহতা আরও বলেন, ব্যাঙ্ক থেকে প্যান কার্ড নম্বর দেখে জানা গিয়েছে, ROY এবং RAY একই ব্যক্তি। এমনকী জিজ্ঞাসাবাদে যে বিষয় নিয়ে অভিযোগ, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়নি বলে গত শুনানির দিন সুমিত রায়ের আইনজীবী যে অভিযোগ করেছিলেন, এদিন জিজ্ঞাসাবাদের পূর্ণাঙ্গ ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দিয়ে তার বিরোধিতা করলেন তুষার মেহেতা। প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিয়ো রেকর্ডিংও জমা দিতে পারেন বলে জানালেন তিনি।
তুষার মেহেতা অভিযোগ করেন, সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে মিউটেশন করিয়ে বিক্রি করায় সুমিতের ভূমিকা রয়েছে। জমির দালালরা সুমিতের নাম বলেছেন। বিভিন্ন সময়ে আলাদা আলাদা ভাবে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যাঙ্কে জমা করেছেন সুমিত। টাকা জমা দেওয়ার ব্যাঙ্ক স্লিপও রয়েছে বলে সওয়ালে করেন তিনি।
তুষার মেহেতার প্যান কার্ড সংক্রান্ত সওয়ালের ভিত্তিতে পাল্টা সওয়াল করার জন্য একদিনের সময় চাইলেন সুমিতের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। তিনি বলেন, যে টাকা সুমিত অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছে, তা দলের সদস্যদের মেম্বারশিপের টাকা। সুমিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক বলেই তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে। আগামিকাল মামলার ফের শুনানি হবে।