Supreme Court on 3rd Language Policy: ‘নবম শ্রেণিতে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ পড়ানো শুরু করবেন না’, কেন্দ্রকে বলল সুপ্রিম কোর্ট

CBSE Third Language Policy: নবম শ্রেণিতেই এই তৃতীয় ভাষা যোগ করা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলে, "এটা ঠিক নয়। নবম শ্রেণি পড়ুয়াদের জন্য খুবই চাপের। নবম শ্রেণিতেই কেন নতুন ভাষা শেখানো হবে? আপনাদের ষষ্ঠ শ্রেণিতেই এটা যোগ করা উচিত।"

Supreme Court on 3rd Language Policy: নবম শ্রেণিতে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ পড়ানো শুরু করবেন না, কেন্দ্রকে বলল সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্টImage Credit source: Getty Images

|

Jul 16, 2026 | 2:43 PM

নয়া দিল্লি: পড়ুয়াদের তিনটি ভাষা পড়াতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। সিবিএসই (CBSE) ইতিমধ্যে তাদের পাঠক্রমেও তৃতীয় ভাষা বা থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ (Third Language) যোগ করার পরিকল্পনা করে ফেলেছে। তবে আজ সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) বলল, তৃতীয় ভাষা পড়ুয়াদের উপরে অত্য়াধিক ও অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করবে।

তৃতীয় ভাষা নীতি-

কেন্দ্রের তিন ভাষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE) নবম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষা যোগ করার পরিকল্পনা করেছে। এই নিয়ে তামিলনাড়ু সরকার বিরোধিতা করেছে। মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য়ের প্রতিটি জেলায় জওহর নভোদয় বিদ্যালয়কে স্বীকৃতি দেওয়ার। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তামিলনাড়ু সরকার। তারা কেন্দ্রের তিন ভাষার নীতি নিয়ে আপত্তি তোলে।

সেই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নবম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষা যোগ করা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তামিলনাড়ু সরকারের আর্জির জবাবে বিচারপতি বিভি নাগারত্ন এই নীতি কার্যকর করার সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন যে পড়ুয়াদের তাহলে আরও অনেক আগে থেকে তৃতীয় ভাষা শেখা শুরু করা উচিত।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ- 

নবম শ্রেণিতেই এই তৃতীয় ভাষা যোগ করা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলে, “এটা ঠিক নয়। নবম শ্রেণি পড়ুয়াদের জন্য খুবই চাপের। নবম শ্রেণিতেই কেন নতুন ভাষা শেখানো হবে? আপনাদের ষষ্ঠ শ্রেণিতেই এটা যোগ করা উচিত।

কেন্দ্রীয় সরকারকে এই নীতি পর্যালোচনা করার অনুরোধ করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতির বেঞ্চ বলে, “কেন্দ্রীয় সরকার, দয়া করে নবম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষা যোগ করবেন না। সিবিএসই, আইসিএসই, রাজ্য বোর্ড, দশম শ্রেণি বোর্ড পরীক্ষা। অষ্টম শ্রেণির শেষভাগ থেকেই পড়ুয়াদের উপরে চাপ তৈরি হয়।

নিজের স্কুলজীবনের কথা উল্লেখ করে বিচারপতি নাগারত্ন বলেন যে তাঁর স্কুলজীবনে মিডল স্কুলেই একাধিক ভাষা পড়ানো শুরু হয়েছিল, যাতে তারা মাধ্যমিক বা সেকেন্ডারি পরীক্ষার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে। তৃতীয় ভাষা আরও আগে থেকে পড়ানো শুরু করার উপরই জোর দেন তিনি, কারণ দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই শুরু করে দেয় পড়ুয়ারা।

এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি নাগারত্ন এটাও স্পষ্ট করে দেন যে জাতীয় শিক্ষা নীতিতে তৃতীয় ভাষা হিসাবে হিন্দি বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তিনি বলেন, “রাজ্যের ভাষাও শেখাতে হবে, ইংরেজিও শেখাতে হবে, আবার তৃতীয় ভাষাও শেখাতে হবে। সেখানে হিন্দির কথাই বলা হয়নি।”

মামলাকারীদের তরফে বলা হয়েছিল যে কোনও রাজ্যের উপরে যেন কোনও ভাষা চাপিয়ে দেওয়া না হয়। তামিলনাড়ু সরকারকে বিচারপতি নাগারত্ন বলেন, “আপনারা হিন্দি ভাষা চান না, যদি সংস্কৃত ভাষা হয়, তাহলে কী আপত্তি?”

কেন্দ্রের তিন ভাষার নীতি-

কেন্দ্রের তৃতীয় ভাষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সিবিএসই ঘোষণা করে যে জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ কাঠামো অনুযায়ী, নবম ও দশম শ্রেণিতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল তৃতীয় ভাষা। তবে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় তৃতীয় ভাষার পরীক্ষা থাকবে না। পড়ুয়াদের স্কুলের ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্টে এই পরীক্ষা থাকবে এবং তাদের পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। যদি কোনও পড়ুয়া তৃতীয় ভাষায় পাশ না করেন, তাহলে তাকে সেকেন্ডারি স্কুল এক্সামিনেশন পাশ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই নিয়ম চালু করার পরিকল্পনা সিবিএসই-র।

Follow Us