
নয়াদিল্লি: দেশের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তাদের একটি পোস্ট ঘিরে শোরগোল পড়েছিল। বাধ্য হয়ে পোস্টটি ডিলিটও করেছিল কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। তারপরও বিতর্ক থামেনি। এবার ওই পোস্ট নিয়ে পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার কেরল কংগ্রেসের পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিস জারি করল দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এদিন মামলাটির শুনানি হয়। শুনানিতে বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংবিধানই দেশের সর্বোচ্চ আইন। কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক সংগঠন সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয়।
এদিন সুপ্রিম কোর্ট তার নির্দেশে বলে, “সংবিধানই সর্বোচ্চ। কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক সংগঠন তার ঊর্ধ্বে নয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধার বিষয় নয়। এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার, যা এই প্রজাতন্ত্র এবং দেশের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ।” সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, আদালতের কর্তৃত্ব খর্ব করার যে কোনও প্রচেষ্টাকে কঠোর হাতে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।
এই মামলায় একজন প্রবীণ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ করেছে শীর্ষ আদালত। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ফৌজদারি না দেওয়ানি, কোন ধরনের আদালত অবমাননার অভিযোগ প্রযোজ্য হতে পারে, তা খতিয়ে দেখবেন তিনি। পাশাপাশি অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরমানিরও সহযোগিতা চেয়েছে আদালত।
প্রসঙ্গত, রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বিক্ষোভ চলাকালীন দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় তদন্তের দাবিতে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি মন্তব্য করেছিলেন। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই তাঁকে নিশানা করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিল কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। সেখানে বলা হয়, “প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, আইনশৃঙ্খলা যদি আপনার এক্তিয়ারের মধ্যে না পড়ে, তা হলে এখনই পদত্যাগ করুন। আমরা এমন কাউকে আপনার জায়গায় নিয়ে আসব, যিনি এই পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন।”
ওই পোস্ট ঘিরে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের দুটি বার অ্যাসোসিয়েশন—সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (SCBA) এবং সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস অন রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশন (SCOARA)—প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবির নিন্দা করে।
পরবর্তীতে তীব্র সমালোচনার মুখে পোস্টটি মুছে ফেলে কেরল কংগ্রেস। দলের নেতারাও এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চান। পাশাপাশি, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ওই পোস্টের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে দল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানায় কংগ্রেস।