
নয়াদিল্লি: পেট্রলে কত শতাংশ ইথানল মেশানো রয়েছে,তা গ্রাহকদের যেন জানানো হয়। দেশের প্রতিটি পেট্রল পাম্পে বাধ্যতামূলকভাবে লেবেল লাগানোর দাবি তুলে উঠেছিল মামলা। আর সেই আবেদনই এবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশের (M. M. Sundresh) বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে,দরকারে মামলাকারী এই নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন।
আবেদনটি করেছিলেন আইনজীবী নরেন্দ্র কুমার গোস্বামী। তাঁর দাবি ছিল, পেট্রলের সঙ্গে কত শতাংশ ইথানল মেশানো হয়েছে, তা গ্রাহকদের জানার অধিকার রয়েছে। সেই কারণে পেট্রল পাম্পে কত শতাংশ ইথানল মেশানো হচ্ছে তার নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা হোক বলে সুপ্রিম দুয়ারে দ্বারস্থ হন। শুনানির শুরুতেই আবেদনকারীর সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আসার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। বিচারপতি জানতে চান, তিনি কোথায় প্র্যাকটিস করেন এবং কেন প্রথমে হাইকোর্টে যাননি। বিচারপতির প্রশ্ন, “কে আপনি?” আদালতের পক্ষ থেকে তাঁকে হাইকোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এর জবাবে গোস্বামী বলেন, একজন গ্রাহক হিসেবে তিনি যে জ্বালানি কিনছেন, তাতে কতটা ইথানল রয়েছে তা জানার অধিকার তাঁর রয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, পেট্রল কিনলেও বর্তমানে সর্বত্র স্পষ্টভাবে E20 লেখা থাকে না। আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, কোনও প্যাকেটজাত খাবার কিনলে তার উপাদানগুলি সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়। একইভাবে গাড়ির জ্বালানির ক্ষেত্রেও ইথানলের পরিমাণ স্পষ্টভাবে জানানো উচিত।
কেন্দ্রের হয়ে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি এই আবেদনের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতকে জানান, ইথানল মিশ্রিত পেট্রল সংক্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে আগে যে মামলাগুলি করা হয়েছিল, সেগুলি সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই খারিজ করেছে।
তবে আবেদনকারী স্পষ্ট করেন, তিনি সরকারের E20 নীতির বিরোধিতা করছেন না। তাঁর দাবি শুধুমাত্র গ্রাহকদের কাছে জ্বালানিতে কত শতাংশ ইথানল রয়েছে, সেই তথ্য প্রকাশ করা। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট আবেদনটি গ্রহণ করেনি। তবে আবেদনকারীকে হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।