Supreme Court: ফাঁসি নয়, মৃত্যুদণ্ড হবে ইঞ্জেকশনে? বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের

Supreme Court on Capital Punishment: জনস্বার্থ মামলার আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ফাঁসি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, অমানবিক এবং নিষ্ঠুর। তাই CrPC-র ৩৫৪(৫) ধারায় ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হোক। পাশাপাশি, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছিল।

Supreme Court: ফাঁসি নয়, মৃত্যুদণ্ড হবে ইঞ্জেকশনে? বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের
সুপ্রিম কোর্টImage Credit source: Getty Image

Aug 18, 2026 | 1:48 PM

নয়া দিল্লি: ফাঁসির (Capital Punishment) বদলে কম যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির যন্ত্রণা কমানো এবং তাঁর মর্যাদা রক্ষার জন্য মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে কোনও বিকল্প পদ্ধতি চালু করা হবে না। সেক্ষেত্রে, আপাতত ভারতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসিই বহাল থাকল।

সম্প্রতি, আইনজীবী ঋষি মালহোত্রা সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পদ্ধতিতে ফাঁসির পরিবর্তে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন, গুলি করে মৃত্যুদণ্ড, ইলেকট্রিক চেয়ার-এর মতো কম যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আজ সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে।

কী ছিল আবেদনে?

জনস্বার্থ মামলার আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ফাঁসি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, অমানবিক এবং নিষ্ঠুর। তাই CrPC-র ৩৫৪(৫) ধারায় ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হোক। পাশাপাশি, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছিল।

আবেদনে আরও দাবি করা হয়, ফাঁসির পর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, গুলি করে বা প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রায় ৫ মিনিটের মধ্যেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব। আইনজীবী মালহোত্রা রাষ্ট্রসংঘের একটি প্রস্তাবেরও উল্লেখ করেন। সেখানে বলা হয়েছে, যেখানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, সেখানে যতটা সম্ভব কম যন্ত্রণা দিয়ে তা কার্যকর করা উচিত।

কী জানাল সুপ্রিম কোর্ট?

আইনজীবীর করা জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আগের তিনটি রায় বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর আবেদনও খারিজ করা হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসিই বহাল থাকছে। তবে বিকল্পের পদ্ধতির পথ একেবারে বন্ধ করে দেয়নি শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, তাদের এই রায় ভবিষ্যতের সমস্ত সম্ভাবনা বন্ধ করে দিচ্ছে না। বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে ভবিষ্যতে যদি শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসা সংক্রান্ত বা বাস্তব তথ্য-প্রমাণ সামনে আসে, তাহলে বিষয়টি ফের সাংবিধানিকভাবে পর্যালোচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি কেন্দ্র চাইলে বিকল্প মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতিগুলি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করতে পারে।

কেন্দ্রের অবস্থান কী ছিল?

কেন্দ্রের হয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি আগে আদালতকে জানিয়েছিলেন, এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। আদালতে এমন প্রস্তাবও উঠেছিল যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফাঁসি অথবা প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনের মধ্যে কোনও একটি পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে কেন্দ্র হলফনামায় জানিয়েছিল, এমন ব্যবস্থা বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব নয়। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত মন্তব্য করেছিল, কেন্দ্র সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আনতে আগ্রহী নয় বলেই মনে হচ্ছে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us