
নয়া দিল্লি: বুধবারই লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। কিন্তু, সাসপেনশনের পরও সরব তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ (Kalyan Banerjee Suspension)। কল্যাণ আগেই জানিয়েছেন, সাসপেন্ড হওয়ার পরও আজ তিনি সংসদে আসবেন। দেখা গেল, বৃহস্পতিবার একাই সংসদের বাইরে গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। NCPI সাংসদদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন তিনি। সুদীপ-কাকলিদের (Sudip Banerjee- Kakali Ghosh Dastidar) ফের গদ্দার বলে আক্রমণ করলেন কল্যাণ।
বুধবার মিতালী বাগকে কটূক্তি করার অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে কল্যাণকে। গোটা অধিবেশনেই আর যেতে পারবেন না কল্যাণ। সাসপেনশনের পরই কাকলি, শতাব্দীরা কল্যাণের বিরুদ্ধে সরব হন। মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদের বিরুদ্ধে। পাল্টা NCPI-তে মিশে যাওয়া ২০ জন সাংসদকে বেইমান বলে কটাক্ষ করেন কল্যাণ। সাসপেনশনের পর সাংসদ বলেছিলেন, “এক বছর পর কেন্দ্রে বিজেপি সরকার থাকবে না। আমাকে সাসপেন্ড করে কী হবে? ২০ জন বেইমানকে দেখে নেব। বেইমানকে বেইমানই বলব।” বৃহস্পতিবার আরও একবার সেই ২০ জন এনসিপিআই সাংসদের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেল কল্যাণকে।
বৃহস্পতিবার বেলার দিকে সংসদে একা মকর দ্বারের সামনে গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “২০ জন গদ্দার সাংসদ বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন।” কল্যাণের গলায় ঝুলিয়ে রাখা প্ল্যাকার্ডেও একই কথা লেখা রয়েছে। শ্রীরামপুরের সাংসদ যখন সংসদের বাইরে স্লোগান দিচ্ছিলেন, সেইসময় দুইজন বিজেপি সাংসদ এর প্রতিবাদ করেন। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন, ওড়িশার বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথা সাংসদ রুদ্রনারায়ণ পাণি। কল্যাণকে জোকার বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
অপর এক বিজেপি সাংসদ কল্যাণকে বলেন, “আপনি একা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আপনার সঙ্গে কেউ নেই। সব তৃণমূল ছেড়ে একেক করে চলে যাচ্ছে। এটাঅ আপনাদের অবস্থা।” কিন্তু কারও প্রশ্নের জবাব না দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন কল্যাণ। শ্রীরামপুরের সাংসদকে সমর্থন করেছেন শিবসেনা সাংসদরা। কল্যাণের বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় শিবসেনা সাংসদরাও বিক্ষোভ দেখাতে আসেন মকর দ্বারের সামনে। তখন কল্যাণকে অনুরোধ করেন,শুধু ২০ জন নয়, শিবসেনা থেকে যে কয়েকজন সাংসদ বেরিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের নামেও যেন স্লোগান দেন সাংসদ।