
নয়া দিল্লি ও ঢাকা: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত (Tarique Rahman India visit) সফরকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা চলছে আন্তর্জাতিক মহলে। এর আগেই সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল, অগস্টের শেষের দিকে ভারতে আসতে পারেন তারেক। কিন্তু, এখন তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তারেকের সফরের পরিবর্তে ভারতকে (India-Bangladesh) এবার শর্ত দিচ্ছে ঢাকা। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের সাম্প্রতিক বিবৃতি অন্তত সেরকমই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর শর্তের প্রথমেই রয়েছে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের দাবি।
বাংলাদেশের তরফে রবিবার জানানো হয়েছে, ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত বিষয়ে অগ্রগতি না হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফরে সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকার অন্যান্য পলাতকদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে নয়া দিল্লি পদক্ষেপ না করলে এই সফর নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, তারেক রহমানের নয়া দিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের আধিকারিকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এ কে এম শহিদুল করিম জানিয়েছেন, গত ৫ অগস্ট নয়া দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভিডিয়ো বার্তার পর এই আলোচনা প্রভাবিত হয়েছে। তিনি বলেন,”আমাদের মত হল, সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে আমাদের অনুরোধের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করতে বলেছি। পাশাপাশি, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি মেনে শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত খুনিদের বাংলাদেশে হস্তান্তরেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমরা তাঁদের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছি।”
বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে,”প্রতিবেশী-সহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আমরা আমাদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে যাব। এই সম্পর্ক জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।” বাংলাদেশের দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণার পরও নয়া দিল্লিতে তাঁর প্রকাশ্য সাংবাদিক বৈঠকের ঘটনায় তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়েছে।
তবে ভারত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে নিয়ে ওই সাংবাদিক বৈঠকের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। এর আগে ভারত জানিয়েছিল, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ এখনও ‘পর্যালোচনাধীন’ রয়েছে।