
হায়দরাবাদ: নৃশংস, ভয়াবহ! এগুলি বললেও হয়তো কম বলা হয়। ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পেয়েই বেরিয়ে পড়লেন হত্যালীলায়। বাড়ি গিয়ে খুন করলেন নিজের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। এরপর গেলেন সেই নির্যাতিতার কাছে, যার অভিযোগেই মামলা হয়েছিল। ওই নাবালিকাকেও খুন করলেন অভিযুক্ত।
ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটেছে তেলঙ্গানার রাঙ্গা রেড্ডি জেলায়। বছর পঁয়ত্রিশের ওই ব্যক্তি শুক্রবার রাতে প্রথমে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান, যাদের বয়স চার ও এক বছর, তাদের খুন করেন।
এখানেই থামেনি অভিযুক্ত। এরপরে তিনি ১৭ বছরের নাবালিকার বাড়িতে যান তাঁকে খুন করতে। গত ১৬ মে এই কিশোরীর অভিযোগেই পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের হয় এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত গতকাল রাতে ওই নাবালিকাকে গাড়িতে অপহরণ করে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় এবং খুন করে। নাবালিকার মা ও ঠাকুমাকেও খুন করেন। শুধু ছেড়ে দেন ওই নাবালিকার দিদি, যিনি বিশেষভাবে সক্ষম।
হামলার পর অভিযুক্ত তাঁর বাবাকে ফোন করেন এবং নিজের হত্যালীলা সম্পর্কে জানান। এরপরই নিজের ফোন অফ করে দেন। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ছয়জনকে খুন করার পর নিজেও আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল। তবে গোটা বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। স্পেশাল টিমও গঠন করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির ২০১৮ সালে বিয়ে হয়। তাদের তিন সন্তান ছিল। প্রথম কন্যাসন্তান শৈশবেই মারা যায়। পরে তাদের দুই পুত্র সন্তান হয়। গত মে মাসে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাবালিকাকে অনুসরণ করা এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। ওই ব্যক্তি নাবালিকাকে বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
এক সপ্তাহ আগেই অভিযুক্ত ২০ হাজার টাকা অগ্রিম জামিনে মুক্তি পেতেই হত্যালীলায় বেরিয়ে পড়ে। অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, তাঁর আচরণে সমস্যা ছিল। একাধিকবার কাউন্সেলিং-ও করানো হয়েছিল। তাঁর জুয়ার নেশাও ছিলেন।