
নয়া দিল্লি: এসআইআর ‘Principle of Proportionality’ মেনেই হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিল। শীর্ষ আদালত এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছে, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে, তাদের যাবতীয় তথ্য, বিশেষত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়টি ৪ সপ্তাহের মধ্যে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিস দিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের শুনানির সুযোগ দিতে হবে। বিধানসভা নির্বাচন বা অন্য নির্বাচনের আগে আবেদনের নিষ্পত্তি করতে হবে।
সেই ব্যক্তির আবেদন বৈধ প্রমাণিত হলে তৎক্ষণাৎ তার নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, এমনটা নয়। SIR এর উদ্দেশ্য, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও ইন্টেগ্রিটি প্রতিষ্ঠিত করা। স্বাভাবিকভাবে অবৈধভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এমনটা বলা যায় না। সমগ্র প্রক্রিয়া বিধি মেনে হয়েছে। কোনও নথি গ্রহণযোগ্য কিনা, সেটা যুক্তিসঙ্গত প্রক্রিয়া মেনেই দেখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব সম্পর্কিত বিষয়ে বৈধ অনুসন্ধান করতে পারে, তবে তা নাগরিকত্ব নির্ধারণের সমতুল্য নয়, এটাও স্পষ্ট করেছে শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, কমিশনের যে কোনও পদক্ষেপ কেবল ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কমিশনের সিদ্ধান্তকে নাগরিকত্বের প্রশ্নে চূড়ান্ত বলে গণ্য করা যাবে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, এসআইআরের মাধ্যমে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া আইনবিরোধী নয়। ভোটারদের নোটিস ও শুনানির অধিকার বজায় রাখা হয়েছে। নথিপত্র যাচাইয়ের নিয়মও যুক্তিসঙ্গত ও আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদি কোনও ব্যক্তির নাম ভুল করে বাদ পড়ে যায়, তা হলে তিনি পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন এবং নির্বাচন কমিশনকে সেই আবেদন আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখতে হবে।