
নয়া দিল্লি: ভোটের ফলাফলের পর তৃণমূল (TMC) ছেড়ে এনসিপিআই-তে (NCPI) মিশে গিয়েছেন ২০ জন সাংসদ। এনডিএ-র (NDA) শরিক তাঁরা। স্পিকার ওম বিড়লা মান্যতা না দিলেও এনডিএ শরিকি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন কাকলি (Kakali Ghosh Dastidar), শতাব্দী (Satabdi Roy), সায়নীরা। তবে, ওই বৈঠকে তিন সাংসদের অনুপস্থিতি ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিক্ষুব্ধ তৃণমূল তথা এনসিপিআই-এর ২০ জন সাংসদের মধ্যে তিন মুসলিম সাংসদ বৈঠকে গরহাজির ছিলেন। আর সেখানেই প্রশ্ন উঠছে, আবার কি তৃণমূলে ফিরে যাবেন তাঁরা?
ভোটের ফলাফলের পরই সংসদীয় রাজনীতিতে তৈরি হয় নতুন সমীকরণ। কাকলি, সুদীপ-সহ ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ ঘোষণা করেন, তৃণমূল থেকে বেরিয়ে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন তাঁরা। এনডিএ-র শরিক দলের সাংসদ হিসেবেই কাজ করবেন। সেক্ষেত্রে এনসিপিআইকে যাতে সংসদীয় দলের মান্যতা দেওয়া হয়, তার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু, এখনও তাতে মান্যতা দেয়নি স্পিকার ওম বিড়লা। এনসিপিআই স্বীকৃতি ঝুলে থাকলেও সর্বদলীয় বৈঠকে ডাক পেয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। তা নিয়ে শোরগোলও হয়। প্রতিবাদ করেছিলেন বিরোধীরা। এরপর দেখা যায়, গত সপ্তাহে এনডিএ সাংসদদের বৈঠকে ডাক পাননি কাকলি-সুদীপরা। তবে, গত মঙ্গলবার তাঁরা ডাক পেয়েছিলেন। এমনকী বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে কাকলি, জুনরা জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের এনডিএ-র শরিক দল হিসেবে সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।
সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবার এনডিএ বৈঠকে হাজির ছিলেন না তিন মুসলিম সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। জানা গিয়েছে, বাদল অধিবেশন উপলক্ষে দিল্লিতেই রয়েছেন তাঁরা। কিন্তু, তারপরও কেন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই আরও একটা খবর প্রকাশ্যে আসছে। ইঙ্গিত মিলেছে, বিজেপির সঙ্গে সরাসরি মিশে যেতে পারে এনসিপিআই। এই আবহে তিন মুসলিম সাংসদের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অনুপস্থিত সাংসদরা
রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, খলিলুর, আবু তাহের বিজেপিতে মিশে যাবেন না। নিজেদের এলাকায় তাঁদের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেখানকার যা জনবিন্যাস সেই অনুপাতে রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক করতে হবে। যদিও, কেন তাঁরা বৈঠকে ছিলেন না, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেউ মুখ খোলেনি। এটা আসলে নিছক সাধারণ কোনও কারণ, নাকি সত্যিই এনসিপিআই থেকে দূরত্বের ইঙ্গিত কি না, আপাতত তিন সাংসদের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।