Kalyan Banerjee: ‘হ্যাঁ, আমি টাকা নিয়েছি’, বুক ফুলিয়ে কেন বললেন কল্যাণ?

TMC Clash: এ দিন নয়া দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিস থেকে বৈঠক সেরে বেরিয়েই তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, "দুই ঘণ্টা আমরা আমাদের বক্তব্য রেখেছি। নির্বাচন কমিশন এরপরে সিদ্ধান্ত নেবে। কী কী বলা হয়েছে, তা বলছি না, তবে একটা কথা বলছি যে নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে।"

Kalyan Banerjee: হ্যাঁ, আমি টাকা নিয়েছি, বুক ফুলিয়ে কেন বললেন কল্যাণ?
বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।Image Credit source: TV9 বাংলা

| Edited By: ঈপ্সা চ্যাটার্জী

Sep 12, 2026 | 4:03 PM

নয়া দিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নিয়ে ফয়সালা করতে নির্বাচন কমিশনের মুখোমুখি দুই শিবির। একদিকে যেমন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর শিবিরের বক্তব্য শুনেছে কমিশন, তেমনই মমতা-পন্থী তৃণমূল কংগ্রেসেরও কথা শোনা হয়েছে। নাম ও প্রতীক যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হয় নাকি তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীকটাই ফ্রিজ হয়ে যায়, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। তবে আজ জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ঋতব্রত শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মমতা-পন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়।

এ দিন নয়া দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিস থেকে বৈঠক সেরে বেরিয়েই তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Kalyan Banerjee) বলেন, “দুই ঘণ্টা আমরা আমাদের বক্তব্য রেখেছি। নির্বাচন কমিশন এরপরে সিদ্ধান্ত নেবে। কী কী বলা হয়েছে, তা বলছি না, তবে একটা কথা বলছি যে নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”

কী কী নথি চাইল কমিশন, এই প্রশ্নের জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, “আমরা একটা ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি। বাকি কোনও নতুন তথ্য জানতে চায়নি। আমরা একথাও বলেছি যে ঋতব্রতদের পক্ষ থেকে আর কোনও নতুন তথ্য পাইনি। নির্বাচন কমিশনকে অন্য কোনও তথ্য দিয়ে থাকলেও, তা আমরা জানি না। এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের বিরুদ্ধে আমাদের বিগিনিং অ্যাপ্লিকেশন ফাইল করা রয়েছে।”

অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে কল্যাণ বলেন, “কলকাতা হাইকোর্ট তো ইতিমধ্য়েই অর্ডার ইস্যু করেছে। সিভিল কোর্টের রায় তো ওভার-রাইট করা যাবে না। হাইকোর্ট তো বলেছে জাস্টিস সুব্রত পালকে অ্যাপয়েন্ট করেছে। যেখানে টাকা লাগবে, দেবে ওই ফান্ড থেকে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে কিছু করতে পারবে না। ওদের ফাংশনিং নিয়ে আমি ডিস্টার্ব করতে পারব না। এই প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?”

মামলা লড়ার ফি নিয়ে কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে চিঠি লেখার কথাও বলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এর জবাবে শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, “লিখুন না। আমার পরিবার, আমায় নিয়ে যা ইচ্ছে লিখুক। আমি যা টাকা পেয়েছি, সেটা পরিশ্রম করে পেয়েছি। আমি তো বিনা পরিশ্রমে টাকা পাইনি। আমার যা আছে, সব অন রেকর্ড। আমি মামলা লড়েছি, এটা তো অস্বীকার করতে পারবে না। ফিজ তো নেবই। যেখানে যেখানে ফিজ নেওয়ার, নেবই। সরকার থেকে দিয়েছে, সেটা জমাও পড়েছে। তার ট্যাক্সও দিয়েছি। এটা তো অন্যায় নয়। সরকারের স্বার্থে করেছি, স্কুল সার্ভিস কমিশনের স্বার্থে করেছি। আমার ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। আমি তো কেন্দ্রীয় সরকারের হয়েও আগে লড়েছি। সেন্ট্রাল গভর্মেন্ট কি আমায় টাকা দেয়নি? প্রফেশন তো প্রফেশনই। সেটা তো আর কলঙ্কিত করা যায় না।”

এরপরই ঋতব্রতকে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “আমার পিছনে লেগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তোমার কোনও লাভ হবে না। বাংলার পাবলিক যা মারবে না পরে, বুঝতে পারবে”। দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নেও ঋতব্রতকে পাল্টা জবাব দিয়ে কল্যাণ বলেন, “২০২৬ সালের নির্বাচনে দাঁড়ালে কেন? সিপিএম পার্টি থেকে এসে তো তৃণমূলকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না বা মানুষকে কন্ট্রোল করা যায় না। আমার কথা হল, নির্বাচনে দাঁড়ালে কেন?মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ারপার্সন না থাকলে, তিনি তো ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে নেই। তাহলে তাঁর দেওয়া সিম্বল নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়ালে কেন? ঋতব্রত তৃণমূলটাকে নিজের সম্পত্তি বলে মনে করে, সেটাকে বেঁচে দিয়েছে। ওটা তো একটা দালাল। ওর থেকে বড় দালাল আর কেউ আছে? পশ্চিমবঙ্গ সবথেকে লজ্জাকর একটা মানুষের জন্ম দিয়েছে, সেটা হল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।”

 

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us