
ট্রেন যখন চড়েন, তখন নিশ্চয়ই দেখেছেন যে ট্রেনের কামরার ছাদে ঘুরছে বড় পাখা। সেই পাখা আবার থাকে স্ট্যান্ড ফ্য়ানের মতো বড় খাঁচা। আচ্ছা কখনও ভেবেছেন যে এই পাখা যদি কেউ খুলে এনে বাড়িতে লাগায়, তাহলে কি সেই ফ্যান চলবে?
এর সহজ উত্তর হল, না। ট্রেনের ভেতরে থাকা বৈদ্যুতিক পাখা চুরি করে এনে বাড়িতে কিংবা অন্য কোথাও সাধারণ প্লাগ কানেকশন বা সংযোগ দিয়ে চালানো সম্ভব নয়। এভাবে চালাতে গেলে পাখাটি সঙ্গে সঙ্গেই পুড়ে যাবে বা অকেজো হয়ে যাবে।
এর প্রধান কারণ হল ভোল্টেজ ও বিদ্যুতের ধরণ (Current Type)। আমাদের বাড়িতে সাধারণত ২৩০ ভোল্ট (230V) অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) সরবরাহ হয়। ভারতীয় রেলের কামরায় যে পাখাগুলি থাকে, সেগুলি বিশেষভাবে নির্মিত, যা ১১০ ভোল্ট (110V) ডিরেক্ট কারেন্ট (DC)-এ চলে।
বাড়িতে অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) কারেন্টের প্লাগে ট্রেনের এই ডিরেক্ট কারেন্ট(DC) পাখা লাগালে, উচ্চ ভোল্টেজ এবং ভিন্ন ধরণের কারেন্টের কারণে পাখার কয়েল ও মোটর সঙ্গে সঙ্গে পুড়ে নষ্ট হয়ে যাবে। একইভাবে ট্রেনের লাইটও জ্বলে না।
ট্রেনের পাখা চালাতে গেলে আলাদা করে একটি ১১১ ভোল্টেজ ডিসি (DC) পাওয়ার সাপ্লাই বা স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার ও রেকটিফায়ারের প্রয়োজন হবে, যা সাধারণ বাড়িতে থাকে না। এবং এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
রেলে পাখা বা আলো চুরির ঘটনা বন্ধ করতেই ভারতীয় রেলওয়ে এই প্রযুক্তি চালু করে। আগে রেলে ১১০ ভোল্টের বদলে সাধারণ বাড়িতে ব্যবহৃত ১২V, ২৪V বা AC চালিত আলো-পাখা ব্যবহার করা হত। ফলে সেগুলি সহজেই চুরি করে লোকজন বাড়িতে নিয়ে চলে যেত।
যাত্রী নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় রেল সমস্ত কামরায় ১১০V DC সিস্টেম চালু করে। এর উদ্দেশ্য হল, যদি কেউ ট্রেনের লাইট বা পাখা চুরি করেও নিয়ে যায়, তবে সাধারণ বাড়িতে তা কোনও কাজেই আসবে না।
রেলের পাখা বা যেকোনও সরঞ্জাম চুরি করা এবং বাড়িতে রাখা গুরুতর অপরাধ। রেলওয়ে সম্পত্তি আইন (Railway Property Unlawful Possession Act)-র অধীনে রেলের সম্পত্তি চুরি করা বা বেআইনিভাবে নিজের কাছে রাখা আইনত দণ্ডনীয়।
শাস্তি: প্রথমবার এই অপরাধে ধরা পড়লে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা, অথবা উভয় সাজাই হতে পারে।
সুতরাং ট্রেনের পাখা বাড়িতে যেমন ব্যবহার করা অসম্ভব, তেমনই এটি চুরি করাও আইনত অপরাধ।