
মুম্বই: শিবসেনা গোষ্ঠীর লড়াই গড়াল সুপ্রিম কোর্টে। মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্পিকারের ‘আসল শিবসেনা’ নিয়ে রায়ের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা। সোমবার বিকালেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তারা। মূলত, স্পিকারের নির্দেশের স্থগিতাদেশ চেয়ে শীর্ষ আদালতে দ্বারস্থ হয়েছেন বালসাহেব ঠাকরের পুত্র। অর্থাৎ শিন্ডে গোষ্ঠীর বিধায়কদের মহারাষ্ট্র বিধানসভায় যোগদান থেকে বিরত থাকার অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেওয়ার আবেদন চেয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে শিবসেনা গোষ্ঠীতে ভাঙন ধরে। ঠাকরে এবং শিন্ডে- দুটি গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে যায় দল। সেই ভাঙনের সময়ই বিজেপির সমর্থন নিয়ে উদ্ধব ঠাকরেকে ক্ষমতাচ্যুত করে মহারাষ্ট্রের মসনদে বসেন একনাথ শিন্ডে। সেই সময় দু-তরফেই অপর শিবিরের বিধায়কদের পদ খারিজের আবেদন জানানো হয়। কোন শিবসেনা আসল- সেটা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের তরফে প্রথমে আবেদন জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য শিন্ডে শিবিরেরই জয়ী হয়। গত ১০ জানুয়ারি শিন্ডে গোষ্ঠীর শিবসেনা ‘আসল’ বলে রায় দিয়েছেন মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্পিকার রাহুল নারওয়েকার। স্পিকারের এই রায়ের বিরুদ্ধেই এবার সুপ্রিম কোর্টে গেল ঠাকরে গোষ্ঠীর শিবসেনা।
সুপ্রিম কোর্টে শিবসেনা (ইউবিটি)-র তরফে আবেদনপত্রে জানানো হয়েছে, স্পিকার যে নির্দেশ দিয়েছেন সেটি ‘বেআইনি ও বিকৃত’ এবং তিনি ‘দশম তফসিল উল্টে দিয়েছেন’। সংবিধানের দশম তফসিলটি সাধারণত ‘দলবদল বিরোধী আইন’ নামে পরিচিত এবং এটি নিশ্চিত করে যে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ব্যক্তিগত লাভের জন্য রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করবেন না। স্পিকার যে নির্দেশ দিয়েছেন সেটা সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেও পিটিশনে উল্লেখ করেছে ইউবিটি। পিটিশনে আরও বলা হয়েছে, “বিজেপির সঙ্গে এই বিধায়কদের যোগসাজশ অবিসংবাদিত সত্য এবং বিজেপির সমর্থনে যে একনাথ শিন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন, সেটা স্পিকার বিবেচনা করেননি।”