
নয়া দিল্লি: মহাভারতে যুদ্ধ হয়েছিল পাণ্ডব ও কৌরবের। এবারের লোকসভায় যুদ্ধ হবে মোদীজির নেতৃত্বে এনডিএ-র সঙ্গে কংগ্রেসের নেতৃত্বে পরিবারতান্ত্রিক ইন্ডিয়া জোটের। রবিবার এমনটাই বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির রাষ্ট্রীয় অধিবেশনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “ইন্ডিয়া জোট হল পরিবারতান্ত্রিক, অহংকারী ও দুর্নীতিগ্রস্তদের জোট।”
এ দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জোট এমনি তৈরি হয় না। সমভাবাপন্ন দলরা মিলিত হয়ে জোট তৈরি করে। কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোট তৈরি হয়েছে। এই জোটের সকলেই দুর্নীতিগ্রস্ত।এই দেশে কংগ্রেসই দুর্নীতির জনক এবং কংগ্রেসই দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। ইউপিএ সরকারের ১০ বছরের সময়েই দেখুন, ২জি দুর্নীতি, আইএনএক্স মিডিয়ার দুর্নীতি, সারদা দুর্নীতি, হিমাচলে আপেল বন্টন নিয়ে দুর্নীতি, জমির বিনিময়ে চাকরির দুর্নীতি, বোফর্স দুর্নীতির মতো অগুনতি দুর্নীতি হয়েছে”।
তিনি আরও বলেন, “অনেকে বলছেন ইন্ডিয়া জোট নাকি আমাদের জন্য় বড় চ্যালেঞ্জ। আমার কাছে ইন্ডিয়া জোট হল সাত পরিবারবাদী দলের জোট হল ইন্ডিয়া। যারা নিজেদের দলের মধ্যেই গণতন্ত্র তৈরি করতে পারে না, তারা দেশের গণতন্ত্র কী রক্ষা করবে? একদিকে মোদীজির উন্নয়নমূলক জোট, অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর পরিবারতান্ত্রিক। আমার বিশ্বাস, জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। ভারতীয় জনতা পার্টিকেই বেছে নেবে।”
পরিবারতন্ত্রের রাজনীতিকে দুষে অমিত শাহ বলেন, “মোদীজি যেখানে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য রেখেছেন, ২০৪৭ সাল অবধি রোডম্যাপ তৈরি করে রেখেছেন, সেখানেই সনিয়াজির লক্ষ্য় হল নিজের ছেলেকে প্রধানমন্ত্রী বানানো, শরদ পওয়ারের লক্ষ্য হল নিজের মেয়েকে মুখ্য়মন্ত্রী বানানো, মমতাদির লক্ষ্য ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করা, স্ট্যালিনের লক্ষ্য তাঁর ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী বানানো, উদ্ধব ঠাকরের লক্ষ্য ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী করা, লালুজির লক্ষ্য় ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী করা আর মুলায়মজি তো ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী করেই গিয়েছেন।”
প্রসঙ্গত, সাতটি পরিবারতান্ত্রিক দল বলতে কংগ্রেস, এনসিপি, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি, ডিএমকে ও শিবসেনা। এই প্রতিটি দলেই রয়েছে পরিবারতন্ত্র। এতদিন মূলত কংগ্রেসকেই পরিবারতন্ত্র নিয়ে আক্রমণ করলেও, এ দিন ইন্ডিয়া জোটের সদস্য প্রতিটি দলকেই নিশানা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।