
ভুবনেশ্বর: কাফ সিরাপ খেলে গোখরো সাপের কী হয়? সেটাই ধরা পড়ল ভিডিয়োয়। তবে কাফ সিরাপ নয়, গোখরো সাপটি গিলে ফেলার চেষ্টা করেছিল একটি আস্ত কাফ সিরাপের বোতল। যা আটকে গিএছিল তার চোয়ালে। যার পর, প্রাণ বাঁচানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা করেছিল সে। হয়তো মরেই যেত। তবে তাকে রক্ষা করেছে সাপদের উদ্ধারকারী এক সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকরা। সম্প্রতি এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন ভারতীয় বন পরিষেবা অফিসার সুশান্ত নন্দ।
তিনি জানিয়েছেন, এই অদ্ভূত ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার ভুবনেশ্বরে। তিনি যে ভিডিয়োটি পোস্ট করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, কাশির সিরাপের একটি বোতল মুখে আটকে গিয়েছে সাপটির। বোচলের সরু দিকটি তার মুখের ভিতরে ঢুকে আছে। বোতলটি এমনভাবে আটকে গিয়েছে যে, সেটা সে গিলতেও পারছে না, উগরে বেরও করে দিতে পারছে না। এই অবস্থায় সে মরেই যেত। কারণ, বোতলটি মুখে আটকে থাকায় একদিকে সে প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছিল। অন্যদিকে, সেটি আটকে থাকলে সাপটি শিকার করা, খাবার খাওয়া, নিজেকে রক্ষা করার মতো কাজগুলো করতে পারত না। কিন্তু, সর্প উদ্ধারকারী সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকদের দেখা যায়, সাপটির গলায় চাপ দিয়ে ধীরে ধীরে বোতলটিকে সাপটির মুখ থেকে বের করে দিতে। এক সময়, সেটি সাপটির মুখ থেকে বেরিয়ে আসে। বোতলটি আটকে গিয়ে, গোখরো সাপটি এতটাই কাহিল হয়ে পড়েছিল যে, বোতলটি পুরো বেরিয়ে আসার পরও কিছুক্ষণ সে নির্জীব অবস্থায় পড়ে থাকে। তারপর, এঁকেবেঁকে ওই স্থান থেকে চলে যায়। স্বেচ্ছাসেবকদের হর হর মহাদেব বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়।
বোতলটি সাপটির মুখ থেকে বের করার পর গোখরো সাপটি যে কোনও সময়ই স্বেচ্ছাসেবকদের আক্রমণ করতে পারত। সেই ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে তারা সাপটিকে রক্ষা করেছে, তার ভুয়সী প্রশংসা করেছেন আইএফএস অফিসার সুশান্ত নন্দ। ভিডিয়োটির সঙ্গের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “ভুবনেশ্বরে একটি গোখরো সাপ একটি কাশির সিরাপের বোতল গিলে ফেলেছিল এবং সেটিকে উগরে দিতে পারছিল না। স্নেক হেল্প লাইনের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রবল ঝুঁকি নিয়ে সাপটির নিচের চোয়াল প্রশস্ত করে বোতলের মুখটি মুক্ত করে, একটি মূল্যবান জীবন বাঁচিয়েছে। সাবাশ।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নেটিজেনরা যেখানে সেখানে ময়লা ফেলার বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কাফ সিরাপের বোতলটি যদি সঠিক জায়গায় ফেলা হত, তাহলে গোখরো সাপ কখনই সেটি গিলতে যেত না। বন্যপ্রাণ এবং পরিবেশের ক্ষতি রুখতে যথাযথ জায়গায় বর্জ্য ফেলা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। এই ধরনের দূষণ মানুষের জন্য লজ্জার। এই প্রসঙ্গে, প্লাস্টিক বর্জ্যও উপযুক্ত জায়গায় ফেলার বিষয়ে সচেতন করেছেন পশুপ্রেমীরা।