
ভোপাল: কোনও অপরাধ করলে, সেই অপকর্ম বা ভুল কাজ শোধরানোর জন্যই পাঠানো হয় সংশোধনাগারে। সেখানে বন্দি দশা কাটানোর পর অপরাধীরা যাতে আবার সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে পারেন এবং নিজে খেটে অর্থ উপার্জন করতে পারেন, তার জন্য জেলে ভোকেশনাল ট্রেনিং বা কারিগরি প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। কিন্তু সেই প্রশিক্ষণ যে এমন ‘ব্যাক-ফায়ার’ করবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি জেল কর্তৃপক্ষ। এক বন্দি জেলে থাকাকালীন ছাপানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন শুধুমাত্র জেল থেকে বেরিয়ে নকল নোট ছাপানোর জন্য!
ঘটনাটি ঘটেছে মধ্য প্রদেশে। ভূপেন্দ্র সিং ঢাকাত নামক ৩৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি চুরি, খুন সহ একাধিক অপরাধে জেলে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি নানা ধরনের কাজের প্রশিক্ষণও পেয়েছিলেন ভোকেশনাল ট্রেনিং হিসাবে। তবে সেই শিক্ষা তিনি ভাল কোনও কাজে নয়, বরং ভুল পথে অর্থ উপার্জনের জন্যই ব্যবহার করতে শুরু করলেন।
গত সপ্তাহের শনিবারই ভূপেন্দ্রকে পুলিশ হাতেনাতে ধরে। তাঁর কাছ থেকে ৯৫টি নকল ২০০ টাকার নোট উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁর বাড়িতে হানা দিয়ে কালার প্রিন্টার, ছয়টি কালির শিশি ও কাগজ উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে নকল নোট তৈরি করা হচ্ছিল।
জেরায় ভূপেন্দ্র স্বীকার করে নেয় যে বিগত কয়েক মাস ধরে জেলায় নকল নোটের চক্র চালাচ্ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে খুন সহ ১১টি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। কোথা থেকে নকল নোট ছাপানো শিখল, এই প্রশ্নের জবাবে ভূপেন্দ্র জানান, শেষবার যখন তিনি জেলে গিয়েছিলেন, তখন ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ে তিনি ছাপানোর কাজ শিখেছিলেন। সেই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়েই তিনি নকল নোট ছাপানোর কাজ শুরু করেন জেল থেকে বেরনোর পর। ভূপেন্দ্র জানিয়েছেন, বিদিশা, রাজগড়, ভোপাল ও অশোকনগরে তিনি নকল নোট পাচার করছিলেন।