Unmarried Women in India: ভারতে অবিবাহিত মহিলার সংখ্যা বাড়ছে, বিয়েতে অনীহা নাকি অন্য কোনও কারণ?

Why Women Are Staying Unmarried: শুধু টাকা নয়, ভারতীয় পরিবারগুলির অন্দরেও বদল আসছে। প্রশ্ন উঠছে, স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই চাকরি করলে অফিস থেকে ফেরার পর সংসারের কাজ করবেন কে? টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, 'টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯' অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের জন্য মহিলারা বেতন ছাড়া প্রতিদিন গড়ে ২৯৯ মিনিট গৃহস্থালির কাজে ব্যয় করেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে সেই সময় হল ৯৭ মিনিট।

Unmarried Women in India: ভারতে অবিবাহিত মহিলার সংখ্যা বাড়ছে, বিয়েতে অনীহা নাকি অন্য কোনও কারণ?
প্রতীকী ছবিImage Credit source: Getty Images

Aug 18, 2026 | 12:54 PM

নয়া দিল্লি: ভারতে অবিবাহিত মহিলার (Unmarried Woman) সংখ্যা বাড়ছে। আর এর কারণ শুধুমাত্র কেরিয়ার নয়। জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর (NSO)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে ভারতে অবিবাহিত মহিলার (Unmarried Woman in India) হার ছিল ১৩.৫ শতাংশ। ২০২১ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৯.৯ শতাংশ। কেন এই পরিসংখ্যান বাড়ছে? এর অর্থ এই নয় যে সব মহিলা সচেতনভাবে বিয়ে করার থেকে পিছিয়ে আসছেন। তবে একটা বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে আগের তুলনায় দেরিতে বিয়ে হচ্ছে, অথবা বিয়ে আর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে, কারও ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা, উপার্জন বিয়ের আর্থিক প্রয়োজনীয়তা কমিয়েছে। আবার কারও কাছে সংসারের দায়িত্ব, মাতৃত্ব নিয়ে প্রত্যাশা এবং বিয়ের পর কেরিয়ারের স্বাধীনতা হারানোর আশঙ্কা বিয়ের সিদ্ধান্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিয়ের করার প্রবণতা কেন কমছে, দেখে নিন কারণগুলি

আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হচ্ছেন মহিলারা

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমীক্ষায় সবথেকে বড় কারণ হল, বিয়ের আগে আরও বেশি সংখ্যক মহিলা নিজেদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলছেন। কেন্দ্রের অল ইন্ডিয়া সার্ভে অন হায়ার এডুকেশন ২০২১-২২ অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষায় ছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৭ লক্ষ। ২০১৪-১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৫৭ লক্ষ। একই সময়ে মহিলাদের GER ২২.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৮.৫ শতাংশ হয়েছে।

উচ্চশিক্ষিত হওয়া মানেই কোনও মহিলা বিয়ে করবেন না, এমন নয়। তবে এর ফলে বিয়ের আগে তাঁদের হাতে সময়, আয় এবং নিজের জীবন বেছে নেওয়ার সুযোগ বাড়ছে। ফলে বিয়ে তাঁদের কাছে শুধুমাত্র আর্থিক নিরাপত্তার বিষয় থাকছে না।

সংসারের কাজ নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

শুধু টাকা নয়, ভারতীয় পরিবারগুলির অন্দরেও বদল আসছে। প্রশ্ন উঠছে, স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই চাকরি করলে অফিস থেকে ফেরার পর সংসারের কাজ করবেন কে? টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, ‘টাইম ইউজ সার্ভে ২০১৯’ অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের জন্য মহিলারা বেতন ছাড়া প্রতিদিন গড়ে ২৯৯ মিনিট গৃহস্থালির কাজে ব্যয় করেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে সেই সময় হল ৯৭ মিনিট।

একইভাবে, মহিলারা প্রতিদিন গড়ে ১৩৪ মিনিট পরিচর্যার কাজে ব্যয় করেন, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ৭৬ মিনিট।

এই ব্যবধান বিয়ের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাইরে আট ঘণ্টার চাকরির পরও একজন বিবাহিত মহিলার কাছ থেকে রান্না, ঘর পরিষ্কার, সংসার সামলানো, সন্তানদের দেখাশোনা এবং শ্বশুরবাড়ির দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। যাঁরা এই ধারণা বা মানসিকতা থেকে নিজেদের বাইরে রাখতে চান, সেক্ষেত্রে বিয়ে করে পরে প্রত্যাশাগুলির সঙ্গে লড়াই করার থেকে একা থাকাই সহজ বলে মনে করছেন অনেকে। সমীক্ষায় তেমনই ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে।

সঙ্গী বাছাইয়েও পরিবর্তন

২০২৪ সালের একটি ডেটিং সাইটের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৬৪ শতাংশ মহিলা উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাঁরা সঙ্গীর কাছ থেকে কী চান এবং কী প্রয়োজন, সেই বিষয়ে তাঁদের ধারণা আগের তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্ট। একইসঙ্গে তাঁরা কোনও সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপস করতেও কম আগ্রহী। এর অর্থ এই নয় যে মহিলারা বিয়ে করতে চাইছেন না। বরং সম্পর্ক বা বিয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রত্যাশা বদলাচ্ছে।

একটি বিয়ে যদি ক্রমাগত আপস, দায়িত্ব কিংবা নিজের স্বাধীনতা হারানোর কারণ হয়, তাহলে অনেকের কাছেই বিয়ের থেকে একা থাকা ভালো বিকল্প বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবারে যদি কোনও অসফল বা টক্সিক বিয়ের উদাহরণ থাকে, তাহলে সেই পরিবারের মহিলাদের মধ্যে এই ভাবনা আরও জোরালো হচ্ছে। সাধারণত, ভারতীয় পরিবারে বিয়ের পর কেরিয়ারে বিরতি, সন্তান পালনের দায়িত্ব কিংবা সবকিছুতে মহিলাকেই ‘অ্যাডজাস্ট’ করতে বলা হয়। তাই অনেকেই ভাবছেন, তাঁরা নিজের জীবনে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে চান কি না।

দেরিতে বিয়ে

ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে (NFHS)-এর তথ্যের ভিত্তিতে করা একটি গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯২-৯৩ সালে ২০-৪৯ বছর বয়সি ভারতীয় মহিলাদের বিয়ের বয়স ছিল ১৬.২ বছর। তা ২০১৯-২১ সালে বেড়ে হয়েছে ১৯.২ বছর।

বিয়ের আগে মহিলারা এখন শিক্ষাগ্রহণ, চাকরি এবং স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের জন্য আরও বেশি সময় পাচ্ছেন। আর বিয়ে যত দেরিতে হচ্ছে, তত বেশি সময় নিয়ে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন যে আদৌ তাঁরা বিয়ে করতে চান কি না।

একা থাকার ক্ষেত্রেও বাধ্যবাধকতা

কিছু মহিলার কাছে আর্থিকভাবে একা থাকা এখন আগের তুলনায় সহজ হলেও সামাজিকভাবে বিষয়টি এখনও জটিল। অবিবাহিত মহিলাদের এখনও বাড়ি, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, স্বাস্থ্য পরিষেবা,সন্তান ধারণ, সন্তান দত্তক নেওয়া-সহ একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তবে অনেক মহিলা এখন ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও নিজেরাই করছেন। স্বামী বা সন্তানই বার্ধক্যের একমাত্র অবলম্বন হবে, এমন ধারণার বদলে তাঁরা সঞ্চয়, সম্পত্তি, স্বাস্থ্য পরিষেবা বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

সমাজ আধুনিক হলেও ভারতে বিয়ে নিয়ে ধ্যানধারণা এখনও সেভাবে আধুনিক হতে পারেনি। এখানে বিয়ে এখনও পারিবারিক প্রত্যাশা, সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু, তারপরেও একটাই প্রশ্ন উঠছে, জীবন কাটানোর জন্য বা পারিবারিক প্রত্যাশা মেটানোর জন্য কি সত্যিই বিয়ের প্রয়োজন? ‘অবিবাহিত’ থাকা এখন আর কোনও সমস্যা নয়, অনেকের কাছে এটি হয়ে উঠছে নিজের পছন্দের একটি জীবনযাপন।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us