Kejriwal Arrest: ইডির হাতে কী কী সাক্ষ্য-প্রমাণ? কেন গ্রেফতার কেজরীবাল?

Kejriwal Arrest: কেন গ্রেফতার করা হল কেজরীবালকে? ইডির দাবি, এই মামলার অন্যতম 'ষড়যন্ত্রকারী' হলেন কেজরীবাল। কী কী সাক্ষ্য প্রমাণ রয়েছে ইডির কাছে? বেশ কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং ফেসটাইম কলের নথি এবং...

Kejriwal Arrest: ইডির হাতে কী কী সাক্ষ্য-প্রমাণ? কেন গ্রেফতার কেজরীবাল?
প্রতীকী ছবিImage Credit source: TV9 Bangla

Mar 21, 2024 | 10:57 PM

নয়া দিল্লি: আবগারি নীতি মামলায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টি প্রধান অরবিন্দ কেজরীবালকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এর আগে, ইডি নয়-নয়টি সমন এড়িয়ে গিয়েছিলেন কেজরীবাল। বারংবার ইডির সমনকে ‘রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেছেন আপ নেতারা। সূত্রের খবর, সমন এড়িয়ে যাওয়া এবং তাদের পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলাটা ইডি মোটেই ভালভাবে নেয়নি। এর আগে, ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন একই ধরনের চেষ্টা করেছিলেন, তাঁকেও পরে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু, কেন গ্রেফতার করা হল কেজরীবালকে? কী প্রমাণ রয়েছে ইডির কাছে? আসুন জেনে নেওয়া যাক, কেন বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার হলেন কেজরীবাল –

  1. ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, অরবিন্দ কেজরীবাল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে আবগারি মামলায় অভিযুক্তদের বেশ কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং ফেসটাইম কলের নথি রয়েছে তদন্তকারীদের কাছে। এই মামলায় অর্থ স্থানান্তরের জন্য, কীভাবে হাওয়ালা অপারেটরদের ব্যবহার করা হয়েছিল, রয়েছে তার বিবরণও। ইডির দাবি, এই মামলার অন্যতম ‘ষড়যন্ত্রকারী’ হলেন কেজরীবাল।
  2. ইডির দাবি, ভারত রাষ্ট্র সমিতির নেত্রী কে কবিতা, এবং আপ নেতা অরবিন্দ কেজরীবাল, মণীশ সিসোদিয়া ও সঞ্জয় সিং মিলে দিল্লির আবগারি নীতি সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
  3. এই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এমন এক নীতি তৈরি করা হয়েছিল, যা দক্ষিণ ভারতের একটি মদের লবির উপকার করবে। এই লবিকে ইডি উল্লেখ করেছে ‘দক্ষিণ লবি’ বলে। বিনিময়ে, এই ‘দক্ষিণ লবি’ আপ দলকে ১০০ কোটি টাকার তহবিল প্রদান করেছিল।
  4. ইডির দাবি অনুযায়ী, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন অভিযুক্ত ও সাক্ষীদের বক্তব্যে বারংবার কেজরীবালের নাম উঠে আসছিল। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়র নোটে এবং চার্জশিটেও এর উল্লেখ করেছে ইডি।
  5. আবগারি নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন বিজয় নায়ার। তিনি প্রায়শই কেজরীবালের অফিসে যেতেন বলে দাবি ইডির। মদ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কেজরীবালের সংযোগসূত্র ছিলেন এই নায়ার। তদন্তকারীরা বলেছেন, তিনিই ‘ইন্দোস্পিরিট’ সংস্থার মালিক সমীর মহেন্দ্রুর সঙ্গে কেজরীবালের সাক্ষাৎ করিয়ে দিয়েছিলেন।
  6. প্রাথমিক বৈঠক ব্যর্থ হলেও, পরে কেজরীবালের সঙ্গে এই বিষয়ে ভিডিয়ো কলেও কথা হয়েছিল সমীর মাহেন্দ্রুর। ‘দক্ষিণ লবির’ আরেক অভিযুক্ত তথা বর্তমানে সাক্ষী, রাঘব মাগুন্তাও কেজরীবালের কথা বলেছেন। তাঁর দাবি এই বিষয়ে কেজরীবালের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তাঁর বাবা। প্রসঙ্গত, রাঘব মাগুন্তার বাবা একজন ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির সাংসদ।
  7. ২০২২ সালের ডিসেম্বরে মণীশ সিসোদিয়ার প্রাক্তন সচিব, সি অরবিন্দও এই মামলার সঙ্গে কেজরীবাল যুক্ত ছিলেন বলে বিবৃতি দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ২০২১-এর মার্চে সিসোদিয়ার তাঁকে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের একটি খসড়া প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। পরে তিনি জানতে পেরেছিলেন, মন্ত্রিসভার কোনও বৈঠকে আবগারি নীতির প্রস্তাব নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। অরবিন্দ কেজরীবাল এবং সত্যেন্দ্র জৈন নথিটি তৈরি করেছিলেন। ওই নথির ভিত্তিতেই তাঁকে একটি মন্ত্রি-গোষ্ঠীর রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয়েছিল।
  8. নিয়মিত বিরতিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নয়-নয়টি সমন পাঠিয়েছিল ইডি। তদন্তকারীরা চেয়েছিলেন কেজরীবাল তদন্তে সহযোগিতা করুন। কিন্তু, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী প্রথম থেকেই সমনগুলিকে উপেক্ষা করেছেন। নিয়ম ভেঙেছেন। এটাও তাঁর গ্রেফতার হওয়ার অন্যতম কারণ।

 

Follow Us