
কলকাতা: আগামী অগাস্ট মাসের শেষের দিকেই বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা এল নিনো তৈরী হতে পারে। সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন WMO (World Meteorological Organization) এর জলবায়ু বিভাগের প্রধান মুফামা ওকিয়া।
WMO-র মতে, এই প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের আবহাওয়া আরও প্রাণান্তকর ও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে সাময়িকভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এবার এল নিনো কতটা ভয়ঙ্কর হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। যদিও বা, আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এই মাঝারি থেকে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। তবে ওকিয়া জানান, প্রতিটি এল নিনোর ধরণ আলাদা। তাই একটি এল নিনো (যা প্রধানত দুর্বল) কোনও একটি পরিস্থিতিতে মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
এল নিনো কী?
এল নিনো হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু, যার কারণে মহাসাগরে জল অত্যধিক গরম হয়ে যায়। এল নিনো দেখা দিলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এটি মূলত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তৈরী হলেও পুরো বিশ্বে এর প্রভাব পড়ে। এই এল নিনোর ফলে কোনও কোনও অঞ্চলে যেমন তীব্র খরা দেখা দেয়, আবার কোথাও কোথাও রেকর্ড পরিমান বৃষ্টিপাত হয়।
এল নিনো-র ফলে বিভিন্ন দেশে কী প্রভাব পড়তে পারে?
এল নিনোর কারণে বিশ্বের কিছু এলাকায় তীব্র খরা দেখা দিতে পারে। যেমন – পশ্চিম আফ্রিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। এই এল নিনোর প্রভাবে ভারতেও বর্ষা বা মৌসুমী বায়ু দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং গরমের তীব্রতা অনেক বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের অঞ্চলে প্রচুর ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বিভিন্ন দেশের ভূমিকা কী হতে পারে?
WMO জানিয়েছে, তাদের তৈরী বেশ কিছু মডেলের মাধ্যমে ৬ মাস আগেই এল নিনোর পূর্বাভাস দেওয়া যেতে পারে। এই তথ্যগুলো বিভিন্ন দেশকে দেওয়া হবে, তবে স্থানীয় পরিস্থিতি বিচার করে এই এল নিনোর বিরুদ্ধে লড়ার দায়িত্ব বিভিন্ন দেশের নিজেদেরই। এই প্রসঙ্গে মনে করাচ্ছে ২০২৩-২০২৪ সালের এল নিনোর সময় পানামায় বৃষ্টি কমে যাওয়ার ফলে পানামা খাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এর ফলে বিশ্বের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যদিও এই বিষয়ে দেশগুলিকে সাহায্য করছে WMO। এবং এর মধ্যেই আশা করা হচ্ছে, আগের ঘটনাগুলি থেকে হয়তো শিক্ষা নেবে নানা দেশগুলি।