Farmers’ Accident Relief: স্বামীর নামে থাকা জমিতে চাষাবাদ মহিলার, মুখ্যমন্ত্রী কৃষক দুর্ঘটনা কল্যাণ যোজনায় ক্ষতিপূরণ নিয়ে বড় নির্দেশ আদালতের

Allahabad HC on Farmers' Accident Relief: আদালত আরও জানায়, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য হওয়া এই প্রকল্পের শর্ত নয়। স্বামীর নিজের জমি বা উপার্জন থাকলেও, স্ত্রী যদি সেই জমিতে কৃষিকাজ করেন এবং জমির আয় তাঁর জীবিকার প্রধান উৎস হয়, তাহলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বঞ্চিত হবেন না।

Farmers Accident Relief: স্বামীর নামে থাকা জমিতে চাষাবাদ মহিলার, মুখ্যমন্ত্রী কৃষক দুর্ঘটনা কল্যাণ যোজনায় ক্ষতিপূরণ নিয়ে বড় নির্দেশ আদালতের
ফাইল ফোটোImage Credit source: PTI

Nov 03, 2026 | 7:46 PM

এলাহাবাদ: স্বামীর নামে নথিভুক্ত জমিতে কৃষিকাজ করেন। এবং সেই জমি থেকে আয়ই জীবিকার প্রধান উৎস। এমন হলে একজন মহিলাও সরকারের কৃষক দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী। এক মামলায় এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, জমির নথিতে ওই মহিলার নাম না থাকলেও কিংবা তিনি ভাগচাষি না হলেও, শুধুমাত্র সেই কারণে তাঁর ক্ষতিপূরণের দাবি খারিজ করা যায় না। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কৃষক দুর্ঘটনা কল্যাণ যোজনা (Mukhyamantri Krishak Durghatna Kalyan Yojana)-র ২(২) নম্বর ধারার উল্লেখ করে আদালত জানায়, পরিবারের যে সদস্য কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত এবং কৃষিজমি থেকে পাওয়া আয় যাঁর জীবিকার প্রধান উৎস, তিনিও পরিবারের উপার্জনকারী সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।

২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি উত্তর প্রদেশে সরকারি নির্দেশিকা জারি করে এই প্রকল্প চালু করা হয়। ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হয়েছে। প্রকল্পের ২ নম্বর ধারায় তিন ধরনের ব্যক্তিকে কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

  • খতিয়ান নথিভুক্ত জমির মালিক কিংবা যৌথ মালিক।
  • ওই জমির মালিকের পরিবারের এমন কোনও উপার্জনকারী সদস্য, যাঁর জীবিকার প্রধান উৎস সংশ্লিষ্ট জমি থেকে পাওয়া কৃষিজ আয়।
  • জমিহীন এমন কোনও ব্যক্তি, যিনি লিজ নেওয়া জমিতে অথবা ভাগচাষের মাধ্যমে কৃষিকাজ করেন।

বিচারপতি প্রকাশ পাডিয়া এবং বিচারপতি গরিমা প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, পরিবারের স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই যৌথভাবে কৃষিকাজ করতে পারেন। কোনও স্ত্রী বাড়ির কাজ সামলানোর পাশাপাশি চাষাবাদে যুক্ত থাকলে, শুধুমাত্র সেই কারণে কৃষিকাজে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না। তিনি কী ধরনের কাজ করছেন এবং সেই কাজ থেকে পাওয়া আয় তাঁর জীবিকার ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার ভিত্তিতেই তাঁকে উপার্জনকারী সদস্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পরিবারের জমিতে কাজ করার জন্য স্বামীর কাছ থেকে আলাদা মজুরি পাওয়াও এই প্রকল্পের ২(২) ধারায় বাধ্যতামূলক নয়।

মামলাকারীর স্ত্রী মীরা দেবী ২০২০ সালের ২০ অগস্ট একটি পথ দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর মামলাকারী মুখ্যমন্ত্রী কৃষক দুর্ঘটনা কল্যাণ যোজনার অধীনে ক্ষতিপূরণের আবেদন করেন। আবেদনের সঙ্গে জমির খতিয়ান, দুর্ঘটনার এফআইআর, মৃত্যুর শংসাপত্র এবং পারিবারিক নথির প্রতিলিপি জমা দেওয়া হয়। কিন্তু ২০২২ সালের ২৪ মে কুশীনগরের জেলাশাসক সেই আবেদন খারিজ করে দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, মৃতার নিজের নামে কোনও জমি ছিল না এবং তিনি ভাগচাষিও ছিলেন না।

এরপর আদালতের দ্বারস্থ হন মৃতার স্বামী। তাঁর দাবি ছিল, স্ত্রী তাঁর নামে নথিভুক্ত জমিতে চাষাবাদ করতেন এবং কৃষিকাজ থেকে পাওয়া আয় দিয়েই পরিবারের জীবনযাপন চলত। কিন্তু প্রশাসন প্রকল্পের আওতায় পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যদের জন্য থাকা পৃথক সুযোগটির কথা বিবেচনা করেনি। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে দাবি করা হয়, মৃতা মূলত গৃহবধূ ছিলেন। জমির নথিতে তাঁর নাম যৌথ মালিক হিসেবে ছিল না। এমনকী, জমির অংশীদার হিসেবে তাঁর অবস্থানের সপক্ষে কোনও নথিও জমা দেওয়া হয়নি।

দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানায়, প্রকল্পের ২ নম্বর ধারায় কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনটি পৃথক যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে। কোনও আবেদনকারী ২(২) ধারার অধীনে ক্ষতিপূরণ দাবি করলে তাঁকে ২(১) ধারার অধীনে জমির নথিভুক্ত মালিকানা অথবা ২(৩) ধারার অধীনে ভাগচাষি হওয়ার প্রমাণ দিতে হবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মৃতার নিজের নামে জমি থাকা বাধ্যতামূলক বলে ধরে নিলে ২(১) এবং ২(২) ধারার মধ্যে থাকা পার্থক্যই কার্যত মুছে যাবে। তাতে ২(২) ধারাটি যে উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে, সেটিই ব্যর্থ হবে।

আদালত আরও জানায়, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য হওয়া এই প্রকল্পের শর্ত নয়। স্বামীর নিজের জমি বা উপার্জন থাকলেও, স্ত্রী যদি সেই জমিতে কৃষিকাজ করেন এবং জমির আয় তাঁর জীবিকার প্রধান উৎস হয়, তাহলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বঞ্চিত হবেন না।

এফআইআরে মামলাকারীর একটি চায়ের দোকান থাকার উল্লেখও করেছিল রাজ্য সরকার। তবে আদালত জানায়, স্বামীর চায়ের দোকান থেকে আয় হত বলেই মৃতার জীবিকার প্রধান উৎস কৃষিকাজ ছিল না, এমনটা প্রমাণিত হয় না। আদালত জানায়, মৃতার জীবিকার প্রধান উৎস কৃষিকাজ ছাড়া অন্য কিছু ছিল, এমন কোনও প্রমাণ রাজ্য সরকার পেশ করতে পারেনি। এরপরই মামলাকারীর আবেদন মঞ্জুর করে ২০২২ সালের ২৪ মে জেলাশাসকের দেওয়া নির্দেশ খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। পাশাপাশি, ক্ষতিপূরণের আবেদনটি নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কুশীনগরের জেলাশাসককে চার সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আদালত।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us