
নয়া দিল্লি: প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন রাজ্যে আর্থিক ভাতা চালু থাকলেও, সকলে সেই পেনশন বা আর্থিক ভাতার সুবিধা পান না। দেশের সকল প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ‘সর্বজনীন ন্যূনতম পেনশন’ (Minimum Pension) চালুর দাবি জানানো হচ্ছিল। সত্যিই কি কেন্দ্রীয় সরকার এমন কোনও পেনশন চালু করার পরিকল্পনা করছে? অবশেষে মিলল তার উত্তর।
সংসদে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ন্যূনতম পেনশন চালু করা হবে কি না, তা জানতে চান রাজ্যসভার সাংসদ আর. গিরিরাজন। জানতে চান, এই সংক্রান্ত কোনও প্রস্তাব রয়েছে কি না। উত্তরে কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে এমন কোনও প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা সরকারের নেই।
পেনশন প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা না থাকলেও, সামাজিক সুরক্ষা বিধি (Code on Social Security), ২০২০-এর বিভিন্ন বিধানের কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক, গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনাই এই আইনের মূল লক্ষ্য।
মন্ত্রী জানান, এই আইনে সামাজিক সুরক্ষা তহবিল (Social Security Fund) গঠনের ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করা হবে। এছাড়া, ধারা ১১৩ অনুযায়ী অসংগঠিত শ্রমিক, গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তাঁরা সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পেতে পারেন।
সংসদে কর্মীদের পেনশন স্কিম (Employees’ Pension Scheme) ২০২৬ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে শোভা করন্দলাজে জানান, ইপিএস (EPS)-এর পেনশন তহবিল একটি যৌথ তহবিল, যেখানে নিয়োগ সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সরকার উভয় পক্ষই অর্থ জমা দেয়। ইপিএস (EPS)-এর সুবিধা পাওয়ার জন্য বা ক্লেম জমা দেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কোনও ব্যক্তি বা তাঁর পরিবার যোগ্য হলে, ক্লেম নিষ্পত্তির পর পেনশনের টাকা এবং প্রাপ্য বকেয়া একসঙ্গেই প্রদান করা হয়।
এছাড়াও, নিষ্ক্রিয় (Inoperative) EPF অ্যাকাউন্টে কত টাকা পড়ে রয়েছে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দেয় সরকার।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় EPF অ্যাকাউন্টে মোট ৯,৩৩০.৫৬ কোটি টাকা জমা রয়েছে।