
হরিয়ানা: মাটিতে পড়ে রয়েছে স্বামীর দেহ। চারিদিক রক্তে ভেসে যাচ্ছে। অভিযোগ, স্ত্রী তখন স্বামীর পেটের ভিতর থেকে অন্ত্র বের করে ব্যাগে ভরছেন। শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য। শুধু তাই নয়, ধরা পড়তেই স্ত্রীও ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার (Haryana Crime News) কুরুক্ষেত্রে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মৃত স্বামী হলেন রাজেশ। তাঁর স্ত্রীর নাম বিমলা। কুরুক্ষেত্রের পেহোয়া রোডে রাজ প্যালেসের কাছে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তাঁরা। বাড়ির মালিক রিঙ্কুর দাবি, ঘটনার দিন বিকেল প্রায় ৫টা নাগাদ ওই দম্পতির চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পান তিনি। গোলমালের আওয়াজ শুনে ছাদে যান। বাড়ির মালিকের দাবি, সেখানে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন রাজেশ। তাঁর পেটে গুরুতর ক্ষত ছিল। অভিযোগ, সেই সময় রাজেশের দেহ থেকে বেরিয়ে আসা অন্ত্র একটি ব্যাগে ভরছিলেন বিমলা। বাড়ির মালিককে দেখতে পেয়েই ওই মহিলা আতঙ্কে ছাদ থেকে ঝাঁপ দেন বলে অভিযোগ।
ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন বিমলা। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। তাঁর বয়ান রেকর্ড করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্বামীকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছেন তাঁর স্ত্রী-ই।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাজেশের পেটে প্রায় ৩৫ সেন্টিমিটার অংশে গভীর ক্ষত পাওয়া গিয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে তাঁর অন্ত্র পেটের বাইরে বেরিয়ে এসেছিল বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ময়নাতদন্তে রাজেশের লিভারের একটি বড় অংশ এবং ডান দিকের কিডনি পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি আলাদা মাপের ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থল থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজেশ উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর জেলার ধামপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় এক বছর ধরে স্ত্রীর সঙ্গে কুরুক্ষেত্রে থাকছিলেন। পেহোয়া রোডের একটি জল সরবরাহকারী সংস্থায় কাজ করতেন তিনি। বাড়ির মালিকের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াও হত। তবে কী কারণে রাজেশকে খুন করা হল আদৌ তাঁর স্ত্রী খুন করেছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দীর্ঘদিন আগে রাজেশ ও বিমলার বিয়ে হলেও তাঁদের কোনও সন্তান ছিল না বলে জানা গিয়েছে। দাম্পত্য সম্পর্ক, অতীতের বিবাদ এবং ঘটনার আগে ঠিক কী হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্ত মহিলার বয়ান, ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।