MLA Vote and Presidential Election: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আপনার MLA-কে দেওয়া ভোটের ভূমিকা থাকে, জানতেন কি?

How MLA Votes Help Elect India’s President: একজন বিধায়ক (MLA) শুধু রাজ্য বিধানসভায় একটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্বই করেন না। বিধায়করা কীভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন? রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেন তাঁদের ভোটের মূল্য আলাদা হয়? কীভাবে একটি স্থানীয় ভোটের যোগসূত্র পৌঁছে যায় রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত? লিখছেন সন্তোষ নায়ার।

MLA Vote and Presidential Election: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আপনার MLA-কে দেওয়া ভোটের ভূমিকা থাকে, জানতেন কি?
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেন রাজ্যভেদে MLA-র ভোটের মূল্য আলাদা? Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Oct 05, 2026 | 4:01 PM

নয়াদিল্লি: ভারতে বিধানসভা নির্বাচন সাধারণত একেবারে স্থানীয় বিষয়কে কেন্দ্র করেই হয়। কোথাও নিকাশি নালা বন্ধ। কোথাও বছরের পর বছর জল সরবরাহের পাইপলাইনই বসেনি। আবার কোথাও বর্ষা এলেই রাস্তায় জল জমে যায়। ভোটাররা এই বিষয়গুলিকে মাথায় রেখেই প্রার্থী বেছে নেন। সেটাই স্বাভাবিক। কারণ এই সমস্যাগুলিই তাঁদের প্রতিদিনের জীবনকে প্রভাবিত করে।

কিন্তু সেই নিকাশি নালা আর ভোটকেন্দ্রের ব্যালটের মাঝখানে আরও বড় এবং অনেক কম আলোচিত একটি বিষয় নীরবে ঘটে যায়। একজন বিধায়ক (MLA)-র সবচেয়ে দৃশ্যমান কাজ নিজের রাজ্যের বিধানসভাতেই। সংবিধান যে বিষয়গুলি রাজ্যের হাতে দিয়েছে—যেমন পুলিশ, কৃষি, জনস্বাস্থ্য এবং জমি—সেগুলি নিয়ে আইন তৈরি করেন তাঁরা। মন্ত্রীদের প্রশ্ন করেন, রাজ্য বাজেট নিয়ে আলোচনা করেন এবং বিধানসভায় নিজেদের সংখ্যার জোরে ঠিক করেন কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, আবার কে মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারাবেন।

এগুলি প্রত্যাশিতই। কিন্তু এর বাইরেও এমন একটি দায়িত্ব রয়েছে, যা অধিকাংশ মানুষই জানেন না।

কীভাবে আপনার বিধায়ক ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাহায্য করেন?

ভারতের প্রত্যেক বিধায়ক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইলেক্টোরাল কলেজ বা নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য। একইভাবে প্রত্যেক নির্বাচিত সাংসদও এই নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য। ভারত যখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে, তখন সাধারণ মানুষ সরাসরি রাষ্ট্রপতিকে ভোট দেন না। তাঁদের হয়ে ভোট দেন বিধায়ক ও সাংসদরা।

সংবিধান ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যাতে রাষ্ট্রপতি শুধু একটি সর্বভারতীয় সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত না হয়ে দেশের প্রতিটি রাজ্য এবং সংসদের দুই কক্ষের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নির্বাচিত হন।

এখানেই বিষয়টি আরও চমকপ্রদ হয়ে ওঠে। প্রত্যেক বিধায়কের ভোটের মূল্য সমান নয়।

প্রত্যেক MLA-র ভোটের জন্য একটি নির্দিষ্ট সংখ্যামূল্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের জনসংখ্যা এবং সেই রাজ্যের বিধানসভায় বিধায়কের সংখ্যার ভিত্তিতে এই মূল্য নির্ধারিত হয়। সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের একজন বিধায়কের ভোটের মূল্য ছিল ২০৮। অন্যদিকে সিকিমের একজন MLA-র ভোটের মূল্য ছিল মাত্র ৭।

তুলনায়, একজন সাংসদের ভোটের মূল্য ছিল ৭০০। কোন রাজ্য থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন, তার উপর সাংসদের ভোটের মূল্য বদলায় না।

কেন রাজ্যভেদে MLA-র ভোটের মূল্য আলাদা?

এত পার্থক্য কেন? একটি রাজ্যে যদি তুলনামূলক বেশি মানুষ বসবাস করেন, অথচ বিধানসভায় আসনের সংখ্যা প্রায় একই রকম থাকে, তাহলে সেই রাজ্যের প্রত্যেক MLA-র ভোটের মূল্য বেশি রাখা হয়। এর ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বড় জনসংখ্যার রাজ্যগুলি যাতে তুলনামূলকভাবে কম প্রতিনিধিত্ব না পায়, তা নিশ্চিত করা যায়।

অর্থাৎ, প্রতিটি রাজ্য নিজের বিধানসভা এবং নিজস্ব কণ্ঠস্বর বজায় রাখে, আবার জনসংখ্যার ভারসাম্যও রাখা হয়।

এই হিসাবের ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের জনগণনার জনসংখ্যার পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হয়। পরবর্তী দশকগুলিতে কোনও রাজ্য জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সফলভাবে কমাতে পারলে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার প্রতিনিধিত্ব যেন সেই কারণে কমে না যায়, সেই লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা।

একবার ভেবে দেখুন লখনউ বা গ্যাংটকের কোনও একজন ভোটারের কথা। তাঁরা কখনও নিজের হাতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পান না। কিন্তু যে MLA-কে তাঁরা রাস্তা সারানো কিংবা বিধানসভায় কোনও স্বাস্থ্য প্রকল্পের দাবি তোলার জন্য ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সেই MLA-ই দেশের আরও বড় একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ হয়ে ওঠেন। সেই সিদ্ধান্তের ফলেই ঠিক হয়, কে বসবেন রাষ্ট্রপতি ভবনে।

এটি সংবিধানের কোনও ছোটখাটো আনুষ্ঠানিকতা নয়। ভারতীয় গণতন্ত্রের একটি কার্যকর অংশ এটি। প্রত্যেকবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় এই প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। অথচ অধিকাংশ নাগরিকই নিজেদের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই যোগসূত্রটি কখনও ভেবে দেখেন না।

এর অর্থ অবশ্যই এই নয় যে স্থানীয় সমস্যা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিংবা নিজের এলাকার রাস্তা, নিকাশি বা পানীয় জল নিয়ে ভোটারদের ভাবা উচিত নয়।

একটি কার্যকর নিকাশি ব্যবস্থা যে পরিবারের বাড়ির সামনে জল জমতে দেয় না, তাদের কাছে সেটি কোনও ছোট বিষয় নয়। কিন্তু একজন MLA একই পদে থেকে দুই ধরনের সম্পূর্ণ আলাদা দায়িত্ব পালন করেন। একটি দায়িত্ব তাঁর নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানায় শেষ হয়ে যায়। অন্যটির প্রভাব পৌঁছে যায় একেবারে ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পর্যন্ত।

অথচ অধিকাংশ নির্বাচনী প্রচারে প্রথম দায়িত্বটির কথাই বলা হয়। দ্বিতীয়টির কথা প্রায় কখনওই উঠে আসে না।

তাহলে আপনার MLA-কে দেওয়া ভোট কত দূর পর্যন্ত পৌঁছয়?

সম্ভবত কারণটা খুব সহজ। একটি বন্ধ নিকাশি নালা চোখে দেখা যায়, আঙুল তুলে দেখানো যায়। কিন্তু প্রতি পাঁচ বছরে একবার, একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া কোনও নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটকে চোখে দেখা যায় না। তাই পরের বার আপনার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হলে মনে রাখা যেতে পারে—আপনি শুধু নিজের রাস্তা ঠিক করার জন্য কাউকে নির্বাচিত করছেন না। আপনি এমন একজন প্রতিনিধিকেও বেছে নিচ্ছেন, যাঁর হাতে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট মূল্যের ভোট। সেই ভোটও শেষ পর্যন্ত দেশের রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়ার অংশ।

রাস্তার জন্য দেওয়া একটি ভোটের এমন দূরত্ব পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি সত্যিই বেশ অদ্ভুত।

সূত্র: PRS Legislative Research-র “How India Will Elect Its Next President”; Factly-এর “A Dummy’s Guide to the President of India’s Election”; ভারতের সংবিধানের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং Presidential and Vice-Presidential Elections Act, 1952; ৮৪তম সংবিধান সংশোধনী আইন, ২০০১—১৯৭১ সালের জনগণনার পরিসংখ্যান ব্যবহারের বিষয়ে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us