
কলকাতা: ক্যামাক-স্ট্রিটের মামলায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানা থেকে বেরলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। রয়েছে শ্লীলতাহানির ধারাও। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দাবি করলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সরকার তথা পুলিশকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন তিনি।
ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে বেআইনি বিল বোর্ড খোলা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার তুলকালাম হয়। পুরসভার কর্মী ও পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি চলে। সেখানে ছিলেন মহিলা পুলিশ কর্মীরাও। ধাক্কাধাক্কি বেশ কয়েকজন পড়েও যান। এই ঘটনার পর অভিযোগ ওঠে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়, ডেরেক ও ব্রায়েন, প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় আজ, মঙ্গলবার থানায় হাজিরা দেন অভিষেক।
বিল বোর্ড খোলা নিয়ে বচসার পর ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে অগ্নিনির্বাচন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখচে যায় পুলিশ। এদিন জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে অভিষেক বলেন, “তারাপীঠে যখন আগুনে পুড়ে মানুষের মৃত্যু হল, আলিপুরে যখন আগুনে পুড়ে ৪০০০ ইভিএম ছারখার হয়ে গেল, তখন কোনও ফায়ার অডিট হয়নি।”
শাসক দলকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “শাসক কোনওদিন গণতন্ত্রের শেষ কথা বলে না। মিথ্যা মামলা দিয়ে ভাবছেন দমিয়ে রাখবেন? আমাদের ১৩ জন কর্মীকে কোনও নোটিস ছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে।” যে পুলিশকর্মীরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, তাঁরা চাকরি করতে হবে বলে প্রশ্ন করছেন, চাকরি করতে হবে, ভয় পাচ্ছেন। এমনটাই বললেন অভিষেক।
অভিষেকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে উত্তর দিতে গিয়ে অভিষেক বলেন, “কারও শ্লীলতাহানি করা হয়নি। আমাদের কাছে ভিডিয়ো আছে। সেদিন পুলিশকর্মীরা ও অফিসাররা আমাদের কর্মী সমর্থকদের সিঁড়ি থেকে টানতে টানতে নিয়ে এসেছে। মানুষের ভোটে নির্বাচিত হলে এত ভয় কীসের।”
পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বলেন, “ওদের যা ক্ষমতা আছে করুক। মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে দমিয়ে রাখবে ভাবলে ওরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে।”