
কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আজ সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সিবিআইয়ের (CBI) একটি চার্জশিটকে হাতিয়ার করেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে তলব করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সূত্রে খবর। ওই চার্জশিটে (CBI Chargsheet) উল্লেখ রয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতিতে ১০০ কোটি টাকা তোলার ছক কষেছিলেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। আর সেই টাকার ভাগে নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। যদিও এই অভিষেক আদৌ তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কি না তা এখন তদন্ত সাপেক্ষ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেই সেটাই জানতে চাইছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। তবে, সিবিআই-এর চার্জশিটে নিয়োগ দুর্নীতির (Primary Recruitment Scam) ১০০ কোটি টাকা কীভাবে, আর কার কার মধ্যে ভাগাভাগি হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেই সম্পর্কে বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে সিবিআই চার্জশিটে।
সিবিআইয়ের চার্জশিটে সুজয় কৃষ্ণ ভদ্রের বাড়িতে একটি বৈঠকের উল্লেখ রয়েছে। ওই বৈঠকে সুজয় ছাড়াও ছিলেন কুন্তল ঘোষ, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকেই সুজয় কৃষ্ণ চাকরি বিক্রি করে বাজার থেকে ১০০ কোটি তোলার একটা টার্গেট বেঁধে দিয়েছিলেন কুন্তল, শান্তনুকে। এই ১০০ কোটি টাকা ৬ জনের মধ্যে ভাগ করার পরিকল্পনা করেছিলেন সুজয়কৃষ্ণ। ১০০ কোটির মধ্যে ২০ কোটি অভিষেককে, ২০ কোটি পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে, ২০ কোটি মানিক ভট্টাচার্যকে দেওয়ার কথা বলেছিলেন সুজয়কৃষ্ণ। আর বাকি টাকা সুজয় নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমনই উল্লেখ রয়েছে সিবিআইয়ের চার্জশিটে।
CBI-এর চার্জশিট অনুযায়ী, সুজয়কৃষ্ণ ওই বৈঠকে শান্তনুদের বলেছিলেন অভিষেক জানতে পেরেছেন যে প্রাথমিক নিয়োগে পার্থ চট্টোপাধ্যায় মোটা টাকা নিচ্ছেন। পার্থ যে টাকা নিয়েছেন, তার ভাগ তিনি কেন পাননি, সেই বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিষেক। ১৫ কোটি না দিলে প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীকে গ্রেফতারির হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এরপরই ১০০ কোটির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানান সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। সিবিআই চার্জশিটে এমনই উল্লেখ করা হয়েছে বলে খবর।