
কলকাতা: শালবনি ও ডেবরার জমি দুর্নীতি এবং চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণাসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ও সিআইডি (CID) তাঁর খোঁজ করছিল। এমনকি তাঁর সন্ধানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি, বেহালার বাসভবন এবং হুগলির শ্রীরামপুরে সুমিতের শ্বশুরবাড়িতেও গভীর রাতে তল্লাশি অভিযান চালায় রাজ্য পুলিশ ও এসটিএফ (STF)। তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিসও জারি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন আড়ালে ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের গ্রিন সিগন্যালের পরই তৎপর সিআইডি আধিকারিকরা। এক ঘণ্টার মধ্যেই একেবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছয় গোটা ফোর্স।
জমি কেলেঙ্কারিতে সুমিত রায়ের নাম জড়ানো, আর তারপর তাঁর নিজেকে আড়াল করে রাখার এই পর্ব যথেষ্ট নাটকীয়। অন্তরালে থেকেই সুমিত আগাম জামিনের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। জমি দুর্নীতি মামলায় শীর্ষ আদালত থেকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচও পান। সুপ্রিম কোর্টের স্বস্তির পর অবশেষে তিনি জনসমক্ষে আসেন এবং সিআইডি-র সদর দফতর ভবানী ভবনে হাজিরা দেন। সেখানে তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সুমিত রায় তদন্তে সহযোগিতা করছেন না বলে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল আর্থিক লেনদেন এবং নিজের পদবীর ইংরেজি বানান (ROY এবং RAY) বদলে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার মতো গুরুতর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়। বৃহস্পতিবারও সুপ্রিম সুমিত রায়ের আগাম জামিন মামলার শুনানি ছিল। এদিন আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে সিগন্যাল দেয়। আর সেই নির্দেশের কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সুমিত রায়ের খোঁজে CID আর STF ফোর্স নিয়ে পৌঁছে যায় অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে। কালো গেট তখন ছিল বন্ধ। ‘কে আছেন ভিতরে?’, গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে ডাকাডাকি করতে থাকেন আধিকারিকরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই গেট খোলা হয়। তখনও অবশ্য দেখা মেলেনি সুমিতের। দুপুর ১.১৫ মিনিট! গেট খোলা হয়। ১.২০মিনিট, সুমিতকে দেখা যায়। ১.৩০, গ্রেফতার করা হয় সুমিত রায়কে।