
কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হয়ে লড়াই করেছেন আইনজীবী সঞ্জয় বসু। তবে, এখন আর তার সঙ্গে আইনজীবী-মক্কেলের সম্পর্ক নেই। আগেই অভিষেকের হয়ে মামলা লড়বেন না বলে জানিয়েছিলেন। আর এই আবহের মধ্যে সেই সঞ্জয় বসুর সঙ্গে বৈঠক করলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর, প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছে দু’জনের। তবে কী নিয়ে আলোচনা তা জানা যায়নি। এখানে উল্লেখ্য, অভিষেকের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন সঞ্জয়। একটি দুটি নয়, তৃণমূল সাংসদ দীর্ঘদিন ধরেই জর্জরিত বিভিন্ন মামলাতেই। কয়লা পাচার, নিয়োগ দুর্নীতির মতো বড়-বড় মামলায় নাম জড়িয়েছে তাঁর। শুধু তিনি একা নন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী গোয়েন্দাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁর স্ত্রীকেও। গোয়েন্দাদের মুখোমুখি হয়েছেন অভিষেকের বাবা এবং মা-ও। এই যাবতীয় বিষয় সবটাই জানা সঞ্জয়ের।
এ দিকে, বিগত দু’দিন ধরে বিধানসভার দিকে নজর রাখলে দেখা যাচ্ছে শাসক-বিরোধী দুই শিবিরের যা না তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে, অধিবেশনে তার থেকে বেশি তর্ক হচ্ছে ঋত ব্লক ও কালীঘাট তৃণমূল এবং পুরনো তৃণমূলের মধ্যে। দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে বেলেঘাটার বিধায়ক বিধায়ক কুণাল ঘোষের তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ভরা অধিবেশন থেকেই কুণাল তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন। আর সেটা শুধু একবার নয়, একাধিকবার। একই সঙ্গে সটান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবেদন ছিল, “যাঁরা-যাঁরা হঠাৎ তৃণমূলের সঙ্গে ঝগড়া করে বাঁচার চেষ্টা করছেন, তাঁদের একটাকেও বাঁচতে দেবেন না।” মুখ্যমন্ত্রীও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপর আবার গতকাল দেখা গেল বক্তা হিসাবে কুণালের নাম কেটে দেওয়া হয় ঋতব্রত শিবিরের তরফে। একপ্রকার বলাই যায় বিধানসভার অন্দরে খানিক নতুন তৃণমূলকে চাপে রাখছে পুরনো তৃণমূল।
এ দিকে অভিষেকের এক সময়ের আইনজীবী সঞ্জয় বসু সবটাই জানেন তৃণমূল সাংসদের গোপন সব বিষয়ে। এবার সেই সঞ্জয় বসু যখন বিদ্রোহী তথা নতুন তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করছেন, তখন তা নিয়ে জল্পনা বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এখানে উল্লেখ্য, এক সময় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ডায়মন্ড-হারবারের সাংসদের পাশাপাশি দেখা যেত ঋতব্রতকে। এরপর পালা বদলের পর বিধানসভায় প্রথম সই জাল ইস্যু নিয়ে সরব হন উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত। তারপর থেকে লাগাতার অভিষেকের বিরুদ্ধে কখনো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, কখনও আবার কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেছেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংগঠনে সং আছে গঠন নেই।” আবার কয়েকদিন নাম না করে এই অভিষেককে ‘ভুঁইফোড় মাফিয়া’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। সেই ঋতব্রত এখন বৈঠক করছেন সঞ্জয় বসুর সঙ্গে। ফলত বাংলার রাজনীতিতে তা চর্চা বাড়াবে বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও, ঠিক কী কী বিষয়ে কথা হয়েছে তা জানা যায়নি। এ দিকে সঞ্জয়বাবু আবার একটি সংবাদ-মাধ্যমের শীর্ষকর্তা। তাই আদতে কী কী নিয়ে বৈঠক তা নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই।