
কলকাতা: অবশেষে আড়াল থেকে বেরিয়ে এলেন সুমিত রায় (Sumit Roy)। দীর্ঘ প্রায় ২ মাসের লুকোচুরির পর শনিবার সকালে দেখা মিলল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়কের (Abhishek Banerjee PA)। শুক্রবার সুমিতের বাড়িতে গিয়ে নতুন করে নোটিস দিয়ে এসেছে সিআইডি। এরপর শনিবার সকাল ১০ টা বাজার ৫ মিনিট আগেই সিআইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছেন তিনি।
হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট, অন্তরালে থেকেও আদালতের দরজায় দরজায় ঘুরেছেন সুমিত রায়। হাইকোর্টে একটি মামলায় আগাম জামিন পেলেও, গ্রেফতারির আশঙ্কায় সুপ্রিম কোর্টে যান তিনি।
জমি থেকে চাকরি- একাধিক দুর্নীতির মামলায় নাম রয়েছে সুমিত রায়ের। শুধুমাত্র ডায়মন্ড হারবারেই চারটি মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মাটি চুরি, সেবাশ্রয় সংক্রান্ত মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে সবার আগে যে অভিযোগে সুমিতের নাম উঠে আসে, তা হল জমি দুর্নীতি। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে জমি দুর্নীতিতে নাম জড়ায় সুমিতের। এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যায় পুলিশ। ডেবরায় চাকরি প্রতারণার মামলাও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুমিত৷ একটি অভিযোগের ক্ষেত্রে তাঁর আগাম জামিনের খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। তবে, অন্য একটি অভিযোগের ক্ষেত্রে তাঁকে আগাম জামিন দেয় আদালত। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের পর্যবেক্ষণ ছিল, গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের বয়ান এবং তথ্যের ভিত্তিতে আদালতের মনে হয়েছে যে তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করা সঠিক হবে না।
সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পর সুমিতের গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দিতে হবে। তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। সঙ্গে একজন আইনজীবীকে নিয়ে যেতে পারবেন তিনি। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুমিতকে তদন্তের জন্য ডাকা যাবে, তবে গ্রেফতার করা যাবে না। এরপরই সিআইডি দফতরে হাজির হলেন সুমিত।