
কলকাতা: একমাসে তিনবার। ফের রং বদল। আর রং বদল করা হল ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে’। দিন বদলে যেতেই ফের সাদা হয়ে গেল গেরুয়া। গত ১২ জুলাই এই ভবনের রং গেরুয়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এর প্রতিবাদে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে চিঠি দিয়েছিলেন একাধিক নাট্য ব্যক্তিত্বরা। শমীক এই দখলের রাজনীতির তীব্র নিন্দা করে মন্তব্যও করেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার নাট্য ব্যক্তিত্বরা সাদা রং করে পুরনো চেহারা ফেরান। বুধবার বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষরা অ্যাকাডেমি পৌঁছন। ফের সেই সাদা রং মুছে গেরুয়া করে দেওয়া হয়।
এ দিন, সাংবাদিকদের সামনে অ্যাকাডেমির পুরনো ছবি তুলে ধরেন রুদ্রনীল সেনগুপ্ত। তারপর বলেন, “কী রং ছিল? অ্যাকাডেমির টিকিট কাউন্টার গেরুয়া ছিল। মিথ্য়াচার করে করে এরা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি থেকে কোণঠাসা হয়ে গেছে। এরা সনাতন ধর্মের বিরোধিতা করে দিকভ্রান্ত হয়ে গেছে। যাঁরা ট্রাস্টি বোর্ডের লোকজনও বিরক্ত। বিকাশবাবুদের বলছি..আপনি নাট্যকর্মী সেজেছিলেন। আর যাঁরা এই রং করেছিলেন তাঁরা সিপিএম-এর হয়ে প্রচার করেন। এই ধরনের ধৃষ্টতা আসে কী করে?
রুদ্র আরও বলেন, “এটা বিচ্ছিন্ন মানসিকতা। বিজেপির রাজ্য সভাপতির কাছে এরা ইতিহাস লুকিয়েছে। বিভিন্ন বার্তা পাঠিয়েছে। যখন দেখেছে কৃতকার্য হয়নি, তখন এই করেছে। আমরা অ্যাকাডেমির মধ্যে কোনও রাজনীতিকরণ চাই না…চাই না…চাই না..।”
বিজেপির আদর্শে যাঁরা বিশ্বাসী তাঁদের মধ্যে ভদ্রতা, সভ্যতা, সাংস্কৃতিক বোধ নেই। ওটা অ্যাকাডেমির ঐতিহ্য অনুযায়ী ছিল। ওরা গুণ্ডামি করে গেরুয়া করে দিয়েছেন। গতকাল নাট্যকর্মীরা ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। এখন যদি বিজেপি মনে করে ওরা ক্ষমতায় আসে বলে গুণ্ডামি করবেন তাহলে ফল ভুগতে হবে। মমতার থেকেও খারাপ পরিণতি হবে। নূন্যতম সাংস্কৃতিক বোধ থাকলে এটা করতেন না।”