
কলকাতা: বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি এক অসামান্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। জুনে যে অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান সামনে আসছে তাতে দেখা যাচ্ছে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, উৎপাদন এবং বিনিয়োগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জিডিপি বৃদ্ধি, শিল্প খাতের বিস্তার এবং রেকর্ড কর আদায়, সব মিলিয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তি বর্তমানে যে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
জিডিপি-শিল্প খাতের অভাবনীয় অগ্রগতি
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতি ৭.৭ শতাংশে হারে বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্বের মধ্যে দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। এমনকি বছরের শেষ ত্রৈমাসিকে এই জিডিপি বৃদ্ধির হার আরও ৭.৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
জুন মাসে ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই ছিল ৫৪.২। এই খাতে যে টানা ৩৭ মাস ধরে ভারতের অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে এর দ্বারাই প্রমাণিত। অন্যদিকে, মে মাসে পরিষেবা খাতের পিএমআই সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯.৮-এ। মে মাসেই দেশের শিল্প উৎপাদন সূচক বৃদ্ধি পেয়ে ৫.১ শতাংশ হয়েছে, যার মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৯.৯ শতাংশ এবং মোটর গাড়ি শিল্পে ১৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম দুই মাসেই (এপ্রিল-মে) পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকারের মূলধনী ব্যয় গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে ২.৫১ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। এর মধ্যে এককভাবে ভারতীয় রেলওয়ে খরচ করেছে ৮৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি। যা মূলত রেল নিরাপত্তা, সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং আধুনিকীকরণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় গাড়ির বিক্রি ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতির ভীতও যে আগের থেকে অনেক শক্তিশালী হচ্ছে তা পরিষ্কার।
এদিকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ফলে কর আদায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুনে জিএসটি সংগ্রহ ১৩.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১.৯৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় সরকার রাজকোষের ঘাটতি নিয়ন্ত্রণেও সফল হচ্ছে।