
কলকাতা: অনন্ত মহারাজের (Ananta Maharaj) বঙ্গবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে নিল শুভেন্দু-সরকার (CM Suvendu Adhikari)। নেতাজিকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশ আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, দেশনায়ককে অসম্মান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কথামতোই এবার কড়া অ্যাকশন রাজ্য সরকারের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে অনন্ত মহারাজকে দেওয়া সম্মান কেড়ে নিল শুভেন্দু সরকার।
সম্প্রতি, নেতাজিকে নিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। নেতাজি সম্পর্কে অনন্ত মহারাজ বলেছিলেন, তাঁর স্বাধীনতা সংগ্রামে কোনও ভূমিকা ছিল না। এমনকী নেতাজি আজাদ হিন্দ ফৌজের অপব্যবহার করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়। নিজের দলের সাংসদের বিরুদ্ধেই সরব হন বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, কাউকে রেয়াত করা হবে না। এদিকে, তৃণমূলের তরফে কুণাল ঘোষ তাঁর সাংসদপদ খারিজের আবেদনও করেন।
অনন্ত মহারাজকে নিয়ে যখন রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড়, তখনই কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের থেকে কেড়ে নেওয়া হল বিশেষ সম্মান। এই সংক্রান্ত নোটিস জারি করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রাজ্যের মান-সম্মান নষ্ট করছেন অনন্ত মহারাজ। সামাজিক অবদানের কথা ভেবে তাঁকে সম্মানিত করা হয়েছিল। সেখানে তিনি সমাজে এমন ভূমিকা পালন করেছেন, যা সমাজের পক্ষে সুখকর নয়। সেইকারণেই ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সম্মান। উল্লেখ্য, গত ২১ ফেব্রুয়ারি অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান দিয়েছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। ৬ মাসের মধ্যেই সেই সম্মান ফিরিয়ে নেওয়া হল।
এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “একটাই কথা বলব, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ভারত মায়ের শ্রেষ্ঠ সম্মান। কারও উচিৎ নয় নেতাজির মতো ব্যক্তিত্ব, যিনি মাতৃভূমি ত্যাগ করে বাইরে গিয়ে নিজের দেশকে স্বাধীন করার চেষ্টা করেছিলেন, সেইরকম এক ব্যক্তিকে নিয়ে কারও মন্তব্য করা উচিত নয়।
এদিকে, কুণাল ঘোষ বলেন, “সঠিক পদক্ষেপ। তবে, রাজ্যসভার সদস্যপদ খারিজ করতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপও করতে হবে।”
এদিকে, বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু সম্পর্কে যাঁরা কটূক্তি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হবে। তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল যে অনন্ত মহারাজকেও গ্রেফতার করা হবে কি না। নাম না করলেও মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল, “কারও নাম করব না, তবে আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে।” অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে আপাতত বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এখন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, এবার কি তাহলে গ্রেফতার হবেন অনন্ত মহারাজ?