
কলকাতা: আবেদন করলেও জুলাইয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি অনেকে। কেন তাঁরা পাননি, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। তারপর গত বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট করে দেন, কারা কারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না। নিয়মে কিছু শিথিলতার কথাও জানান তিনি। এরপরও অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা যাঁরা পাবেন না, তাঁদের কি না-পাওয়ার কারণ জানানো হবে? উঠছে এই প্রশ্ন। রবিবার নবান্নে সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?
আগামিকাল (১৭ অগস্ট) অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকবে। এই পরিস্থিতিতে এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, অন্নপূর্ণা যোজনায় যাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে, তাঁদের কি জানানো সম্ভব কেন তাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে? এর উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখন তো ৩১ জুলাই পর্যন্ত পোর্টাল হয়েছে। ১০ জুলাই পর্যন্ত যাঁদের ভেরিফিকেশন হয়েছে, তাঁদের কালকেই টাকা ট্রান্সফার হয়ে যাবে। আর ১০ জুলাইয়ের পর যাঁরা পোর্টালে আবেদন করেছেন, তাঁদের সবার ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হয়নি। অতএব, বেশিরভাগটাই হয়ে গিয়েছে।”
কারা কারা টাকা পাবেন না, সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “কারা কারা পাবেন না, আগেরদিন (গত বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন) বলেছি। আর জুলাই মাসে যে ১ কোটি ১৯ লক্ষ অন্নপূর্ণা যোজনা পেয়েছিলেন, তাতে যে অনেকের ক্ষোভ ছিল, সেখানে নিয়মে কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। যেমন, ৫০ শতক যে জমির বিষয়টা ছিল, সেটা গ্রাম ও শহর একই ছিল। এখন গ্রাম ও পৌরসভায় শিথিল করা হয়েছে। শুধু পৌরনিগম এলাকায় নিয়মটা রয়েছে। ধরুন কলকাতাতে যার ৫০ শতক জমি রয়েছে। সাতটি পৌরনিগম এলাকা ছাড়া সব জায়গায় শিথিল করা হয়েছে। তারপর তিন কক্ষ বিশিষ্ট ঘর। এটাও মূলত গ্রামীণ এলাকা এবং ছোট পৌরসভা এলাকায় শিথিল করা হয়েছে।”
জুলাইয়ে অনেক আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা না-ঢোকার আরও কারণ ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তাছাড়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গোলমাল ছিল। সেগুলো ঠিক করে আমাদের বিশ্বাস, যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে চাইছেন, তার মোটামুটি ৯০ শতাংশ পাবেন। আর বাকি যেটুকু থাকবে, তার জন্য আমরা পোর্টাল অন করে দেব। মানে কমপ্লেন, সাজেশনের জন্য। পাওয়ার যোগ্য নন, কিন্তু কেউ পেয়ে গিয়েছে। এতবড় প্রক্রিয়া তো। প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষের মতো আবেদন জমা পড়েছে। বেশিরভাগই পাওয়ার মতো জায়গায় রয়েছে। অনেকেরই আধারের সঙ্গে অ্যাকাউন্টের লিঙ্ক ছিল না। সিস্টেমে ভুল ভ্রান্তি ছিল।”
পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আগের সরকার যেটা করেছিল, পুরুষদের দিয়ে দিয়েছিল। ৩ লক্ষ পুরুষকে দিয়েছিল। ওরা প্রথম যখন ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করে, সেটা ঠিকঠাক করতে ৯ মাস লেগেছিল। তারপর ২০২৪ সালে যখন ৫০০ টাকাকে ১০০০ করল, তার আগে পর্যন্ত ১ কোটি ৫২ লক্ষ পেতেন।”