
কলকাতা: অগস্টে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন। যাঁরা টাকা পাচ্ছেন, সবাই কি টাকা পাওয়ার যোগ্য? সরকার যে শর্ত বেঁধে দিয়েছে, সেই শর্ত লঙ্ঘন করে কি কারও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে? এই নিয়ে মঙ্গলবার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, ১০ জুলাইয়ের আগে কোনও যোগ্য আবেদনকারী টাকা না পেলে তিনি যেমন আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন। তেমনই, কোনও অনুপযুক্তের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গেলে তা সংশোধন করবে সরকার।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
এদিন দক্ষিণ কলকাতার তরফে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান হয় ধনধান্য অডিটোরিয়ামে। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, কোনও অনুপযুক্ত মহিলা টাকা পেলে কী করবে সরকার।ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কারা পাবেন, আর কারা পাবেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে সরকার। সেকথা উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যদি দেখেন, বিরাট অর্থশালী লোক। মাসে ৫ লাখ, ১০ লাখ টাকা রোজগার করেন। কিন্তু, তিনি অন্নপূর্ণার টাকা পেয়ে গিয়েছেন। তিনি তো পাওয়ার উপযুক্ত নন। তাঁকে বলব সারেন্ডার করতে। আর যদি এমন অনুপযুক্ত লোক পেয়ে থাকেন, সেই তথ্যটাও সরকারের চোখ হিসেবে আপনারা পোর্টালে বলে দেবেন, ‘অমুক ব্যক্তি স্থায়ী কেন্দ্রীয় কিংবা রাজ্য সরকারি কর্মচারী। তাঁকে দেওয়া উচিত হয়নি।’ সেটাও আমরা কারেকশন করে নিতে পারব।’ মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, কোনও অনুপযুক্ত মহিলা এবার টাকা পেলেও ভবিষ্যতে তিনি অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না।
যোগ্য কেউ বাদ পড়লে কী করতে হবে?
১০ জুলাই পর্যন্ত আবেদনকারীদের মধ্যে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলাকে অগস্টে অন্নপূর্ণার টাকা দেওয়া হচ্ছে। একথা উল্লেখ করে শুভেন্দুর সংযোজন, “জুন মাসে ২৮ লক্ষ মহিলাকে আমরা টাকা দিয়েছিলাম। পরের মাসে ১ কোটি ১৯ লক্ষ মহিলা পেয়েছেন। অনেকের আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গোলমাল ছিল। এবার আমরা গ্রাম-বাংলায় নিয়ম শিথিল করেছি। এবার ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা পাচ্ছেন। তারপরও ১০ জুলাই পর্যন্ত আবেদনকারীদের মধ্যে কোনও যোগ্য মহিলা যদি বঞ্চিত হন, তিনি অভিযোগটা নথিভুক্ত করবেন। নতুন ফর্ম পূরণ করতে হবে না। শুধু ফর্মের নম্বর ও অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে পোর্টালে অভিযোগ নথিভুক্ত করবেন।” একইসঙ্গে বলেন, “আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী ২৪X৭ কাজ করে। আপনারা যাঁরা যোজনার টাকা পাবেন না, আমাকে জানান।”
কেন ফর্ম পূরণ? ফের জানালেন মুখ্যমন্ত্রী-
অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ১২ পাতার ফর্ম পূরণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেন ঝাড়াই-বাছাই? কেন ফর্ম? আগের সরকারের সময় যেখানে বিজেপি জিতেছিল, সেখানে ইচ্ছা করে নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। মৃতদের নামে টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৩ লক্ষ পুরুষ টাকা পেয়েছিল। অনুপ্রবেশকারী টাকা পেয়েছিল। কিন্তু, আমরা চাই না, সরকারি অর্থ অনুপযুক্ত লোকের কাছে যাক। দুর্নীতি হোক। জনগণের সরকারের টাকা সঠিক লোকের কাছে যাক, সে জন্যই আমাদের এই ঝাড়াই-বাছাই বা প্রক্রিয়াটা চালাতে হয়েছে।”
অন্নপূর্ণা যোজনায় বছরে ৪৮ হাজার কোটি টাকা-
অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য বাজেটে ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। একথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন দেখা যাচ্ছে, তাতে হবে না। আমরা হিসেব কষে দেখেছি, এই খাতে বছরে ৪৮ হাজার কোটি টাকা লাগবে। কিন্তু, ভারতীয় জনতা পার্টি ভেবেচিন্তে অঙ্গীকার করেছে। সেই অঙ্গীকার পূরণ করেছে। আগামিদিনেও করবে। এই সরকার আপনাদের। অন্নপূর্ণা যোজনা আমাদের প্রতিশ্রুতি।”
দক্ষিণ কলকাতায় ৫৩ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা পেয়েছেন বলে তিনি জানান। মহিলাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রত্যেক ওয়ার্ডে অন্নপূর্ণা বাহিনী তৈরি করুন। রাজ্য সরকারের সহায়িকা শক্তি হিসেবে কাজ করবেন, এই প্রার্থনা করব।”