
কলকাতা: একসময় একের পর এক মামলায় একে অপরের বিরুদ্ধে লড়েছেন দুই বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্য়াণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)। নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক মামলায় বিকাশ-কল্যাণের লড়াই দেখেছে আদালত। তবে এবার সময় বদলেছে। রাজনৈতিক দূরত্বও এখন কিছুটা কমেছে। এই আবহে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা হতেই হাইকোর্টে সরব হলেন মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার ভোরে আইনজীবী তথা প্রাক্তন সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। বোতল ছুড়ে ভেঙে দেওয়া হয় বাড়ির জানালার কাচ। নোংরা ভাষায় গালিগালাজও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। কয়েকদিন আগে আইনজীবী শামিম আহমেদের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। পরপর এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন ও পদক্ষেপ করার আর্জি জানালেন আইনজীবীরা।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা যারা রাজ্যের বিরোধিতা করছি, তারা ভয়ঙ্কর অবস্থায় আছি। সিজ ওয়ার্ক (কর্মবিরতি) করতে চাই।” হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে বলেন, আপনারা সিজ ওয়ার্ক করলে আমি শেষ পর্যন্ত বাধা দেব। আমরা সারাজীবন আইনজীবী, আজও নিজেকে তাই মনে করি। বিশ্বাস রাখুন।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটা কোনও আইনজীবীদের সমস্যা নয়। বাইরে থেকে গুণ্ডারা আক্রমণ চালাচ্ছে। পুলিশ কী করছে? গোয়েন্দারা কী করছে? বাড়ির লোকেরা আতঙ্কিত।”
পুলিশ ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দেন এজি। তিনি বলেন, এর আগের আমলে তো বিচারপতির বাড়ির সামনে স্লোগান দেওয়া হয়েছে।
শামিম আহমেদের উপর হামলার কথা উল্লেখ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শামিম আহমেদ ও তাঁদের চারটে গাড়ির উপর আক্রমণ হয়েছে। এফআইআর হয়েছে। তারপরে কী হল? বারুইপুরের ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। রাজ্যের সংস্কৃতি এটা ছিল না এর আগে।” ‘আইনশৃঙ্খলার অবস্থা খুব খারাপ’ বলে মন্তব্য করেন শামিম আহমেদও।
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “সঠিক তদন্ত করা উচিৎ।”