
কলকাতা: বাবরের নামে কোনও মসজিদ করা যাবে না। বুধবারই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তাঁর দাবি, বাবর ও বাবরি দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। এই দু’টি এক করে দেখার কোনও যুক্তি নেই। কোথায় বাবর ও বাবরি আলাদা, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
বাবরের নামে মসজিদ তৈরির প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “বাবর ভারতীয় নয়। লুটেরা ছিল। বাবরের নাম লিখলে অনুমতি দেওয়া হবে না। ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে বলে দিয়েছি। লুটেরার নামে মসজিদ করতে দেব না।” পাশাপাশি হুমায়ুন কবীরকে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সড়ক অবরোধ করার অধিকার কারও নেই।
এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে হুমায়ুন কবীর বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী জেনে বুঝে তিনি সম্পূর্ণরূপে মানুষের মনকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য ৬ মাসে যে তাঁর উন্নয়ন করার কথা, রাস্তার উন্নয়ন করার কথা, পানীয়, জল বিদ্যুত, নতুন রাস্তা সম্প্রসারণ, এসবে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি কোনও না কোনও হুমকি দিচ্ছেন।” তাঁর দাবি, বাবর ও বাবরি-কে গুলিয়ে ফেলছেন মুখ্যমন্ত্রী।
হুমায়ুনের বক্তব্য, বাবর যদি লুটেরা বা জোর করে ক্ষমতা দখলকারী হয়েও থাকেন, তার সঙ্গে বাবরি মসজিদের সম্পর্ক এক করে দেখা যায় না। বলেন, ” বাবর যদি জুলুমকারী হয়, বাবর যদি ভারত সম্রাট হয়ে থাকে জোর করে, তার সঙ্গে বাবরির কী সম্পর্ক? বাবরি মসজিদটা বাবরের সেনাপতি মীরবাকি তৈরি করেছিলেন। বাবরি আর বাবর এক নয়। বাবরি একজন মহিলা। তিনি বলেছেন বাবরের নামে কিছু হবে না। কিন্তু ওখানে তো বাবরের কোনও নাম নেই। কেন এক করে দেওয়া হচ্ছে, তা বোধগম্য হচ্ছে না।”
তবে, নাম পরিবর্তন নিয়ে আগেই হুমায়ুনকে আগেই জানিয়েছিলেন শুভেন্দু। এমনটাই জানিয়েছেন বিধায়ক। হুমায়ুনের বক্তব্য, তিন-চার মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে চিঠি দিয়ে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেই চিঠি এখনও আসেনি। তাঁর কথায়, আগে চিঠি আসুক। চিঠির বক্তব্য এবং তার গ্রহণযোগ্যতা খতিয়ে দেখার পরেই এ বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা হবে।