
কলকাতা: স্ত্রীর মোবাইলে অন্য পুরুষের অশ্লীল মেসেজ। তাই দেখে মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী এক যুবক। বেহালায় মর্মান্তিক ঘটনা। থানায় অভিযোগ দায়ের বেহালার যুবকের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সুপ্রিয় পণ্ডিত। তিনি বেহালার জয়শ্রী বামাচরণ রায় রোডের বাসিন্দা। দশমীর দিন স্ত্রীকে ভিডিয়ো কল করে সিলিং ফ্যানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর সাতেক আগে রিয়া নামে এলাকার এক যুবতীর সঙ্গে বিয়ে হয় সুপ্রিয়র। কিন্তু রিয়ার জীবনে কয়েক মাস আগে আরও এক ব্যক্তির আগমন হয়। তাঁকে ঘিরেই শুরু হয় দাম্পত্য কলহ।
সুপ্রিয়র পরিবারের লোকজনের বক্তব্য, একদিন নিজের স্ত্রীর ফোনে অশ্লীল এসএমএস দেখে ফেলেন সুপ্রিয়। তারপর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। শেষমেশ সিদ্ধান্ত নেন বিবাহ বিচ্ছেদের। কিন্তু পরিবারের লোকজনের বক্তব্য, সুপ্রিয় কোনও রকম ভাবে তাঁর স্ত্রীয়ের সঙ্গে অন্য পুরুষের সম্পর্ক মেনে নিতে পারছিলেন না।
বিজয়া দশমীর দিনকে নিজের স্ত্রীকে ফোন করেন একবার ভিডিয়ো কল করতে বলেন। শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। স্ত্রী ভিডিয়ো কল করেননি। কিন্তু কিছু একটা ইঙ্গিত করে সুপ্রিয় প্রতিবেশীকে ফোন করে গোটা বিষয়টি বলেন।
পাশের বাড়ির লোক ছুটে গিয়ে সুপ্রিয়কে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় টালিগঞ্জ এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে। তারপর ছ’দিন হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। মঙ্গলবার রাতে সুপ্রিয়র মৃত্যু হয়।পরিবারের পক্ষ থেকে বেহালা থানায় অভিযোগ করতে যাওয়া হল। এই আত্মহত্যার জন্য সুপ্রিয়র স্ত্রী রিয়াকে দায়ী করছে পরিবার। রিয়ার শাস্তির দাবি জানাচ্ছে সুপ্রিয়র মা।
সুপ্রিয়র মা বলেন, “কোনওভাবেই আমার ছেলে মেনে নিতে পারছিল না, বৌমার জীবনে নতুন কেউ এসেছে। ও ওর ফোনে কিছু একটা দেখে ফেলেছিল। তা নিয়ে অশান্তি চলছিল। বিয়েটা ভেঙেও দিতে চেয়েছিল। কিন্তু রিয়াকে ভুলতে পারছিল না ছেলে।”