
কলকাতা: ‘১২ রাউন্ড গণনার পর মমতাই এগিয়ে ছিলেন। এরপর সব বদলে যায়।’ হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) করা মামলায় এমনই সওয়াল করলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার ভবানীপুরের ফলাফল সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কল্যাণ আর্জি জানান, যাতে দ্রুত এই মামলায় নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট, দ্রুত হয় নিষ্পত্তি। শুনানি শেষে এদিন ভবানীপুরের গণনার কেন্দ্রের যাবতীয় সিসিটিভি ফুটেজের সংরক্ষণের নির্দেশ দেন বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত।
২০২৬-এ ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই কেন্দ্র থেকেই ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করেই মামলা করেন মমতা। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। মঙ্গলবার ছিল সেই মামলার শুনানি।
মমতার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় গণনার দিনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “গণনার দিন ১২ রাউন্ড পর্যন্ত ঠিক চলছিল। মমতা এগিয়ে ছিলেন। এরপর সব বদলে যায়। তৃণমূলের এজেন্টদের মারধর করা হয়, বের করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী সেই কাজে বিজেপির এজেন্টদের সাহায্য কাজ করে। ১৩ রাউন্ড থেকে অস্বাভাবিকভাবে সব বদলে যায়। সিসিটিভি ক্যামেরায় সব রেকর্ড আছে।”
আইনজীবী কল্যাণ এদিন আরও দাবি করেন, ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার, যিনি নন্দীগ্রামের ইলেকশন অফিসার ছিলেন, তাঁকে নিয়ে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁকেই রিটার্নিং অফিসার হিসেবে রাখা হয়। পরে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাজ্যের তৎকালীন মুখ্য নির্বাচবনী আধিকারিককে মুখ্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সূর্যনীল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর এক কাউণ্টিং এজেন্টকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, জেনারেল অবসার্ভারকে বলেও কোনও কাজ হয়নি।
মমতার তরফে আইনজীবী অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেন। সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং ইভিএম সংরক্ষণের আর্জিও জানান। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতিকে বলেন, “মানুষের ধারণা বদলে দিন। অনেকেই মনে করেন এই ধরনের মামলার নিষ্পত্তি হয় না। সেই ধারণা বদলে দিন। দ্রুত নির্দেশ দিন।”
ভবানীপুর নির্বাচনে গণনা কেন্দ্রের যাবতীয় সিসিটিভি ফুটেজের সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ ছাড়া মুছে ফেলা যাবে না ওই ফুটেজ।
সব ইভিএম ও ভিভিপ্যাট (ভবানীপুরের) সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ২ মাস পর ফের এই মামলার শুনানি হবে।