
কলকাতা: ভূপতিনগর- রাজ্য-কেন্দ্রের টানাপোড়েনের একেবারে কেন্দ্রে চলে এসেছে এই নাম। ইতিমধ্যেই এনআইএ অভিযান নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেড় বছর আগে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই তৃণমূল নেতার গ্রেফতারি নিয়ে প্রতিবাদে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। শাসকদলের প্রতিনিধি দল বৈঠক করেছে ভূপতিনগরে। এদিকে, বঙ্গে এসে প্রধানমন্ত্রীও সন্দেশখালি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ভূপতিনগর ইস্যুতে বাংলার শাসক নেতৃত্বকে বিঁধেছে। সব মিলিয়ে টান টান উত্তেজনাময় পরিস্থিতি। এরই মধ্যে ভূপতিনগর ইস্যুতে এবার দিল্লির দরবার তৃণমূলের। কেন্দ্রীয় এজেন্সি NIA এর বিরুদ্ধে অতি সক্রিয়তার অভিযোগ তুলে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল। কমিশনে নালিশ জানাতে চলেছে তৃণমূলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। রয়েছেন দোলা সেন, শান্তনু সেন, অর্পিতা ঘোষরা।
নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর আইন শৃঙ্খলাজনিত সমস্ত বিষয়টি চলে যায় নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে। ভূপতিনগরের বিষয়টি কমিশনের নজরে আনতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত দু’সপ্তাহে দু’দফায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিল। তারা অভিযোগ জানিয়েছিল, নির্বাচনের সময়ে নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির ওপর যাতে নিয়ন্ত্রণ থাকে কমিশনের। মহুয়া মৈত্র কিংবা মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বা শাসকদলের কাউন্সিলরদের যেভাবে ভোটের মুখে তলব করছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি, সেই গোটা তথ্য কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ওপর যাতে রাশ টানা হয়, সেই বিষয়টি আবেদন করে তৃণমূল।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ভূপতিনগরে বোমা বিস্ফোরণ হয়। ২০২৩ সালে এই ঘটনার তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ। গত শনিবার ভূপতিনগরে বিস্ফোরণ ঘটনার তদন্তে যায় এনআইএ। আর যা নিয়ে তুলকালামকাণ্ড। তৃণমূলের তরফ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, ভূপতিনগরে এনআইএ অভিযানের ঠিক আগেই বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি NIA কর্তাদের সঙ্গে ফ্ল্যাটে বৈঠক করেছেন। ওই আবাসনে ঢোকার রেজিস্টার খাতার নথিও তাঁরা প্রামাণ্য হিসাবে সংগ্রহ করেছে বলে দাবি তৃণমূলের। কুণাল ঘোষ সাংবাদিক বৈঠক করে এই তথ্য সামনে আনেনও। যদিও জিতেন্দ্রও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইনি পদক্ষেপের। প্রতিনিধি দলের সদস্য দোলা সেন বলেন, “আমাদের কাছে নথি আছে। বিজেপির পক্ষ থেকে প্রতিনিধি সরাসরি NIAএর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কী রয়েছে, তা জানি না। তবে কিছু তো আছে, তার জন্য ওই বৈঠকের পরই ২০২২ সালের একটি ঘটনায় এনআইএ পাঠিয়ে দুই নেতাকে তোলা হয়েছে। একটাই কারণ, ভোটে যাতে বিরোধীরা অংশ নিতে না পারে।”
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ” আদালতের নির্দেশে তদন্ত হচ্ছে, আদালতে যাচ্ছেন না কেন? এসবের মধ্যে দিয়ে তো বোমা বিস্ফোরণটাকে মিথ্যা করে দেওয়া যায় না। কেন এই বিস্ফোরণ হল, সেটা জানতে পুলিশ ব্যর্থ। তাই আদালত এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।”