
বীরভূম ও কলকাতা: বীরভূমে পাথার খাদানগুলি থেকে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি হয়। তৃণমূল সরকারের আমলে এই অভিযোগ বারবার উঠেছে। এই দুর্নীতির ফলে রাজস্ব ক্ষতি হত সরকারের। রাজ্যে পালাবদল হতেই পাথার খাদানগুলি থেকে রাজ্যের রাজস্ব আদায় নজর কেড়েছে। অবৈধভাবে চেক গেটস তৈরি করে টাকা তোলা বন্ধের পর বীরভূমের কালো পাথর থেকে রাজ্য সরকারের রাজস্ব আদায় রেকর্ড ছাড়াল। শনিবার (২৩ মে) রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দেওয়ার পরে সব অবৈধ দলীয় চেক গেটস এবং তোলা আদায় বন্ধ হয়ে যায়। ১৭ মে থেকে শুধুমাত্র সরকারি চেক পোস্ট মাধ্যমে টাকা আদায় হতে থাকে। অবৈধ চেক পোস্টের টাকা তোলা বন্ধ হতেই সরকারি রাজস্ব আদায় একদিনে পৌঁছল প্রায় ৩ কোটি টাকায়।
বীরভূম জেলায় কালো পাথর পরিবহণ নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ৫টি ব্লকে মোট ১০টি চেকগেট কার্যকর রয়েছে। ময়ূরেশ্বর, রামপুরহাট-১, মহম্মদবাজার, নলহাটি-১ এবং মুরারই-১ ব্লকে এই চেকগেটগুলি স্থাপন করা হয়েছে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর, পরিবহণ দফতর এবং পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা যৌথভাবে চেকগেটগুলিতে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শন ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বিভিন্ন জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির স্পট এনফোর্সমেন্ট অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এমটিডিসিএল (MTDCL) চালান বা ডিসিআর (DCR) ছাড়া কালো পাথর বহনকারী কোনও ডাম্পার ধরা পড়লে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হচ্ছে।
প্রশাসিক সূত্রের খবর, কঠোর নজরদারি, চেকিং ও জরিমানার ফলে রাজস্ব ফাঁকি এবং অবৈধ পাথর পরিবহণে উল্লেখযোগ্য রাশ টানা সম্ভব হয়েছে। আর তারই জেরে গত ১৭ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত শুধুমাত্র বীরভূমের এই কালো পাথর থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৭.১৯ কোটি টাকা। যা আগে কল্পনাও করা যেত না বলে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য। বিজেপির অভিযোগ, আগে তৃণমূলের নেতাদের কাছে এই পাথর খাদানগুলি টাকা লুঠের জায়গা ছিল। সেটা বন্ধ হতেই রাজ্যের কোষাগার ভরছে।