
কলকাতা: ‘এ ব্যথা সহ্য করা যায় না…’ কুণাল ঘোষের ‘আমরা বেইমান নই’ সভা থেকে ফিরেই বললেন তৃণমূল কাউন্সিলর। আর তারপরই ছাড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত। তারাতলা বিপর্যয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে কালীঘাট তৃণমূল ত্যাগ করলেন কলকাতা পুরসভার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে। তাঁর দাবি, তারাতলা বিপর্যয়ে অত্যন্ত হতাশ তিনি। তাঁর দাবি, কীভাবে সেখানে বেনিয়ম হয়েছে, তা গোটাটাই তৃণমূল জমানায়, সেটাই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
বিশ্বরূপ বলেন, ” মনটা আজ সত্যি ভারাক্রান্ত। একটার পর একটা ঘটনায় যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং জোড়াফুল জড়িয়ে পড়ছে তা চোখে দেখা যায় না, বিশ্বাস করা কঠিন। তারতলায় গত প্রায় ৪৮ ঘণ্টায় যা ঘটল তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বললে কম বলা হবে, নিন্দনীয়। আমি যে দলের…তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেছি কলকাতা পুরসভায়, সেই দলের গাফিলতিতে…বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে তৎকালীন মহানাগরিক স্বাক্ষর করেছেন যে প্ল্যান, অর্থাৎ নকশা মঞ্জুর হয়েছে, তা ত্রুটিপূর্ণ এবং যার ফলে এতগুলো নিরীহ মানুষ প্রাণ হারালেন। এ ব্যথা সহ্য করা যায় না।” আর সেই কারণেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়লেন বলে জানালে তৃণমূল কাউন্সিলর।
বিশ্বরূপের অনুতাপ, “যা করেছি ভুল করেছি , তার জন্য ভবিষ্যতে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। বিধানসভায় এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলার পরই আমি তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় নথি দেখান। দেখান তিলতলার ওই গোডাউনের প্ল্যানই ক্রটিপূর্ণ ছিল। আর সেই প্ল্যানই ক্রটিমুক্ত করে তৈরি হচ্ছিল গোডাউন। ওই প্ল্যানে তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই ছিল, সেই নথিও দেখান মুখ্য়মন্ত্রী। বিশ্বরূপের বক্তব্য, দলের বিপর্যয়ের পরও তিনি আনুগত্য বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু তারপর যখন এই ধরনের ঘটনা আর তার কারণ অনুধাবিত করতে পারলাম, আর সেই কারণেই তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়লাম।