
কলকাতা: ভোটে ভরাডুবির পর প্রথমবার রাস্তায় নেমেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। আর রাস্তায় নেমেই জনতার রোষে সাংসদ। ছোড়া হল ডিম, জুতো, কাদা। উঠল চোর চোর স্লোগান। এখানেই শেষ নয় মার পর্যন্ত খেতে হল তৃণমূল সাংসদককে। সোনারপুরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। গোটা ঘটনার পিছনে বিজেপির (BJP) হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এবার এই ঘটনায় মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তাঁর দাবি, এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। তবে, এর সঙ্গে তাঁর দল কোনওভাবেই যুক্ত নয়। তবে, একইসঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূলের আমলে কীভাবে অত্যাচারিত হয়েছিল বিজেপি, কীভাবে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, বিজেপি সংযত রয়েছে বলেই অক্ষত রয়েছে তৃণমূল (TMC)।
ঘটনায় অভিষেক পুলিশে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কেন সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল না সেই বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই বিষয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন,”পুলিশ কেন নেই তা আমি বলতে পারি না। কারণ আমি দলের প্রতিনিধি। সেটা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বলতে পারবে।” অর্থাৎ সরকারের কোর্টেই বল ঠেলে দিয়েছেন শমীক। এই প্রসঙ্গ টেনেই তৃণমূলের আমলে হওয়া অত্যাচারের অভিযোগকে আরও একবার তুলে ধরলেন।
শমীক বলেন, “বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে গাড়ির মধ্যে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছিল উত্তরবঙ্গে। বিরোধী দলনেতাকে সভা-সমিতি করার জন্য একশোবার হাইকোর্টের দরজায় যেতে হয়েছিল। যা অত্যাচার করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস আমাদের কর্মীদের সঙ্গে, আমাদের মহিলাদের সঙ্গে। আমরা সংযত ছিলাম বলেই আজকে তৃণমূল কংগ্রেস অক্ষত রয়েছে। মায়ের সামনে ছেলে ভাত খাচ্ছে, তাকে গুলি করে খুন, মহিলাদের মাথা ন্যাড়া করে তাঁদের থুতু চাটানো. নৈহাটিতে বিজেপি করার অপরাধে তাঁকে থুতু ফেলে চাটানো…তৃণমূল কি অত্যাচারের কিছু বাদ রেখেছে?…তারপরেও যে তৃণমূলের বিধায়ক-মন্ত্রীরা অক্ষত রয়েছেন, এটাই হচ্ছে বিজেপি। আজ যদি তৃণমূল আসত, তাহলে এই জায়গায় আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম না। আমার ৫০০ কর্মী খুন হয়ে যেত। সিপিএম ও কংগ্রেস বিবৃতি দেওয়া মতো অবস্থায় থাকত না।”
অভিষেকের ঘটনায় মুখ খুলেছেন সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও। জনতার কাছে তাঁর একটাই আর্জি কেউ যেন এভাবে আইন হাতে তুলে না নেন।