
নয়া দিল্লি: কাউকে জরুরি ফোন করতে হবে। অথচ ফোনে টাওয়ার নেই। অনেককেই এরকম পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। আবার ধরুন কোথাও ঘুরতে গিয়েছেন। এরকমও দেখা যায়, আপনি যে সিম ব্যবহার করেন, সেখানে ওই সিম (BSNL Satellite Phone) কাজ করে না। অনেকসময় আলাদা সিম ব্যবহার করতে হয়। নেটওয়ার্কের সমস্যার জন্য অনেক অসুবিধায় পড়তে হয়। তবে, এবার বাজারে এমন ফোন আসতে চলেছে, যার মাধ্যমে টাওয়ার (Mobile Tower) ছাড়াই কথা বলা যাবে।
ইতিমধ্যেই বিশেষ ফোনটি লঞ্চ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা বিএসএনএল। তবে,এটি কোনও সাধারণ স্মার্ট ফোন নয়। মূলত স্যাটেলাইট ফোন। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বদলে এই ফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কাজ করে। ফলে যেখানে মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক নেই, সেখানেও যোগাযোগ সম্ভব হবে। তবে এই ফোন যে কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। ভারতে স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম রয়েছে। ফোনটি কেনা বা ব্যবহার করার আগে ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকমিউনিকেশনস (DoT)-এর বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।
সাধারণত মোবাইল ফোন কাছাকাছি থাকা মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে কাজ করে। কিন্তু BSNL-এর স্যাটেলাইট ফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও ব্যবহারকারী ফোনে কথা বলতে পারবেন। BSNL জানিয়েছে,জরুরি পরিস্থিতি, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, জঙ্গল বা সমুদ্রে এই ফোন অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট পরিষেবা সংস্থা Inmarsat-এর সহযোগিতায় এই পরিষেবা তৈরি করা হয়েছে।
BSNL-এর স্যাটেলাইট ফোনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফিচার
মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংযোগ
দুর্গম এলাকা থেকেও ভয়েস কল করার সুবিধা
জরুরি অবস্থার জন্য SOS সাপোর্ট
দীর্ঘক্ষণ ব্যাটারি ব্যাকআপ
এই ফোন সাধারণ গ্রাহকদের জন্য তৈরি নয়। BSNL-এর দাবি, মূলত যাঁরা প্রত্যন্ত এলাকায় থাকেন, যেখানে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের প্রয়োজন, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ ডিভাইস আনা হয়েছে। কারা ব্যবহার করতে পারবেন, দেখে নিন
BSNL-এর স্যাটেলাইট ফোনের দাম অ্যাপেলের ফোনের থেকেও অনেক বেশি। জানা গিয়েছে, ফোনের দাম ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ১৬৬ টাকা। তবে কেনার আগে অবশ্যই DoT-এর অনুমতি নিতে হবে। প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া স্যাটেলাইট ফোন রাখা বা ব্যবহার করলে আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, স্যাটেলাইট পরিষেবার পাশাপাশি BSNL দেশজুড়ে নিজেদের 4G পরিষেবাও দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। সংস্থার দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ৯৯ হাজার 4G সাইট চালু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও নতুন 4G টাওয়ার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।