
কলকাতা: বুধবার রাত এগারোটা। ডিনার হয়ে গিয়েছে আগেই। তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী স্ত্রী লক্ষ্য করেন, হঠাৎ একটা অস্থিরতা বুদ্ধবাবুর শরীরে। এ অস্থিরতা তাঁর চেনা। তাই সঙ্গে সঙ্গেই পরিচিত বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন স্ত্রী মীরা ভটাচার্য। তিনি ফোন করেছিলেন একাধিক জনকে। কিন্তু যেরকমটা হয়! বুদ্ধবাবুর ইচ্ছা ছিল না। সে সময়ে স্থির হয়েছিল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। আর হল না, মিলল না সময়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলকাতার আকাশ মেঘলা। সকালে নির্দিষ্ট সময়েই ঘুম ভাঙে তাঁর। তিনি ওঠেন। স্ত্রীর হাতে ব্রেক ফাস্টও করেন। তারপর চা খান। চা খাওয়ার সময়েই আচমকা বিষম খান। আবারও সেই একই অস্থিরতা। শ্বাস নিতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল তাঁর। আবারও কয়েকটা ফোন ঘোরে। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দ্রুত তাঁরা এসে পৌঁছন বাড়িতে। তাঁরা দেখে বলেন, বুদ্ধবাবু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পেলেন না কেউই।
কোভিডের আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বুদ্ধবাবু। জটিল থেকে জটিল হয় পরিস্থিতি। কিন্তু জয় করে ফিরে এসেছিলেন। হাসপাতালে থাকার ব্যাপারে চরম অনীহা বুদ্ধবাবুর। বুদ্ধবাবু তাই হয়তো এবার আর হাসপাতাল গেলেন না। বাড়িতেই থাকলেন, পাম অ্যাভিনিউয়ের ছোট্ট এক কামরার ঘরেই শেষ নিঃশ্বাসটা পর্যন্ত থাকলেন তিনি। তখন ঘড়ির কাঁটায় সময় ৮.২০ মিনিট। খবরটা পাওয়া মাত্রই চরম অস্থিরতা তৈরি হয় মুখ্য়মন্ত্রীর মধ্যেও, সে কথা নিজেও বললেন।
আরও খবর পড়তে ডাউনলোড করুন Tv9 বাংলা অ্যাপ (Android/ iOs)