
কলকাতা: তৃণমূল (TMC) জমানায় একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কখনও শিক্ষা, গরু পাচার, কয়লা পাচার নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আবার কখনও প্রকাশ্যে এসেছে রেশন, আবাস নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ। এবার করোনা নিয়েও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ। পিএম কেয়ার্স তহবিলে কেনা অক্সিজেন প্ল্যান্ট, ভেন্টিলিটরের একাংশ ব্যবহারই হয়নি রাজ্যে। এমনই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এল ক্যাগ রিপোর্টে (CAG Report)।
সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, করোনার সময় জরুরি পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে ২০২২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত আর্থিক প্যাকেজ দিয়েছিল। কিন্তু, সেই প্যাকেজের ৬৫ শতাংশ ব্যবহারই করা হয়নি। শুধু তাই নয়, অর্ধেকের বেশি অক্সিজেন প্ল্যান্টও চালু করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিচালনা নিয়ে ক্যাগের ২০২৪ সালের রিপোর্টে এই তথ্যই উঠে এসেছে। গত শুক্রবার বিধানসভায় রিপোর্টটি পেশ করা হয়। তৃণমূল জমানায় প্রধানমন্ত্রী তহবিলের কত টাকা খরচ করেছিল রাজ্য, কতগুলি অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু করা হয়, তার বিস্তারিত তথ্যও দেওয়া হয়েছে ক্যাগ রিপোর্টে।
পিটিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, পিএম কেয়ার্স ও সিএসআর-এর মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছিল মোট ৭৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট। তার মধ্যে মাত্র ৩২টি প্ল্যান্ট ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু ছিল। বাকি ৪৩টি প্ল্যান্টের কী হল, কেন চালু করা হল না, সেই বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। কোভিড মোকাবিলায় হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে পিএম কেয়ার্স ফান্ড থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন কনসেনট্রেটরও। কিন্তু, ক্যাগের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, একাধিক হাসপাতাল সেই যন্ত্রপাতি ব্যবহারই করতে পারেনি।
ক্যাগের রিপোর্ট অনুযায়ী, মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পিএম কেয়ার্সের আওতায় পাওয়া ৫টি ভেন্টিলেটর ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত গুদামেই পড়েছিল। এছাড়া আরও ৩টি ভেন্টিলেটর হাসপাতালের স্টোরে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় পড়েছিল। পরে তা কোনওভাবেই ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ২০২০-২২ সালের মধ্যে পাওয়া ১৭টি ICU ভেন্টিলেটর ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত অচল ছিল। একইসঙ্গে, পিএম কেয়ার্সের আওতায় পাওয়া ৫টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটরও হাসপাতালের স্টোরে পড়েছিল।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গকে দেওয়া মোট বরাদ্দের ৬৫ শতাংশ ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত খরচই করা হয়নি। অর্থাৎ ৬৫৯ কোটি ২৮ লক্ষ খরচ হয়নি। তাহলে সেই টাকা গেল কোথায়? কেন প্ল্যান্ট চালু হল না, কী হল বাকি প্ল্যান্টগুলির? কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। এদিকে, এই রিপোর্ট সামনে আসতেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।