
কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বাংলাদেশের হাদি-কে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহিতার অভিযোগ ওঠে। এরপর কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা। মঙ্গলবার ছিল সেই মামলার শুনানি। মমতার মন্তব্যের প্রভাব এবং জনস্বার্থ মামলার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলল ভারপ্রপাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর।
এ দিন, শুনানি চলাকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “যে যা কিছু বলবে, তাই শুনতে হবে? কেন এটি জনস্বার্থ মামলা হিসেবে গ্রাহ্য হবে?” এরপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। বলেন, “আজকাল জনস্বার্থ মামলাকে একটি বিশেষ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।” সেই সময় পুরোনো প্রসঙ্গ টেনে আদালত প্রশ্ন তোলে, “তাপস পালের মামলার কথা মনে আছে? সেখানে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।” এখানে উল্লেখ্য,
তাপস পালের মামলার রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী
মামলাকারীর আইনজীবী ছিলেন অভ্রতনু সরকার। তিনি আদালতে সওয়াল করেন, “মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য সাধারণ কোনও ‘হেট স্পিচ’ বা বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই মন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি দেশের সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। এর প্রভাব মারাত্বক হতে পারে।”
পুলিশ ও রাজ্যেক পক্ষের সওয়াল করেন আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার বলেন, “তদন্ত করে দেখা গেছে, যে স্থানে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্যটি করেছিলেন, সেখানে মামলাকারী নিজে উপস্থিত ছিলেন না। এবং ঘটনাস্থলে কোনও অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেনি।”
অপরদিকে, তৃণমূলের পক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মামলাকারীর প্রশ্ন তোলেন, “মামলাকারীর আশঙ্কা—এর ফলে বাংলাদেশে আক্রমণের ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে কিছু হলে ভারতে সুরক্ষা কীভাবে প্রভাবিত হবে? মামলায় কোনো ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।” পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর।