
কলকাতা: মেসিকাণ্ডে (Leonel Messi) গ্রেফতারির আশঙ্কা করে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। গত ৮ জুন শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ তাঁকে কোনও রক্ষাকবচ দেননি। আজ ফের ছিল এই মামলার শুনানি। এ দিন বিচারপতির স্পষ্ট নির্দেশ, পুলিশের দ্বারা নির্ধারিত দিনে হাজিরা দিতেই হবে অরূপ বিশ্বাসকে। ৪৮ ঘণ্টা আগে দিতে হবে নোটিস। তদন্ত চলবে তদন্তের মতো করেই। কোনও রকম স্থগিতাদেশ নয়। বিচারপতির আরও নির্দেশ, তদন্ত সব রকম সহযোগিতা করতে হবে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে।
শর্ত দেওয়া হয়েছে…
এ দিন, কোর্ট বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে অরূপ বিশ্বাসের জন্য। কী কী সেই শর্ত? বিচারপতির নির্দেশ, আদালতের অনুমতি ছাড়া রাজ্য ছাড়তে পারবেন না অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। তাঁকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে নিম্ন আদালতে। কোনও সাক্ষীদের ভয় দেখাতে পারবেন না রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী।
একই সঙ্গে পুলিশকেও কিছু নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেছেন, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে হবে তদন্ত। কেন এমন ঘটনা ঘটল তার নিরপেক্ষ তদন্ত চলবে। চার সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে রিপোর্ট। তবে,গ্রেফতারির মতো কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না জানাল কোর্ট।
এ দিন হাইকোর্টে অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবীর আবেদন, ডিম-পাথর ছোড়া থেকে নিরাপত্তা দেওয়া হোক তাঁর মক্কেলকে। কোর্টের নির্দেশ, অরূপের বিরুদ্ধে আর কোনও মামলা আছে কি না সেটা জানাতে হবে কোর্টকে।
ক্ষুব্ধ কোর্ট
আজ শুনানি চলাকালীন এই ঘটনা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তাঁর মন্তব্য, “মেসিকাণ্ডে আমরা অত্যন্ত লজ্জিত। রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এই ঘটনা। মেসিকে জড়িয়ে ধরে অরূপ বিশ্বাস দাঁড়িয়ে আছেন। মেসি কি অরূপ বিশ্বাসের বাল্যবন্ধু?” বিচারপতির প্রশ্ন, “অরূপ বিশ্বাস এসব কীভাবে করতে পারলেন ? মেসির অত কাছাকাছি অরূপ বিশ্বাস গেলেন কেন ? এতে মেসির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি?গোটা দেশের আরও অনেক জায়গায় মেসি গেছেন, কোথাও তো এসব হয়নি।”
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য আরও বলেন, “প্রচুর মেসি ভক্ত সেদিন মাঠে ছিলেন, নিরাপত্তার কারণে মেসি আগে চলে যেতে বাধ্য হন। মানুষের স্বপ্নভঙ্গ হয়। চূড়ান্ত অব্যবস্থা দেখা যায়। আমি গোটা ঘটনা নিয়ে পুলিশকে আলাদা করে একটা নিরপেক্ষ তদন্ত করতে বলব বলে ভাবছি।”
তারপরই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন অরূপ বিশ্বাসের উদ্দেশ্যে, “পুলিশ দেখা করতে বলছে, যাচ্ছেন না কেন? কবে যাবেন?” উত্তরে অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবী বলেন, “আপনি রক্ষা কবচ দিলে কালকেই যাব।” এ দিন রাজ্যের সওয়াল, “অরূপ বিশ্বাস তথ্য প্রমাণ বিকৃত করতে পারেন, সাক্ষীদের ভয় দেখাতে পারেন। অরূপ বিশ্বাস অভিযোগকারী শতদ্রু দত্তের থেকে অনেক প্রভাবশালী। আগেও পুলিশ তাঁকে নোটিশ পাঠিয়েছিল, সেই নোটিশকে মান্যতা দেননি অরূপ বিশ্বাস। ফলে তাকে রক্ষা কবচ দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।”, সওয়াল রাজ্যের।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত প্রাথমিক ভাবে মনে করছে যে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনও প্রয়োজন নেই।” – মন্তব্য বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর। তিনি এও বলেন, “১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ এর ঘটনা, আর অভিযোগ করা হয়েছে ৩০ মে ২০২৬। ৬ মাস পরে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, আর রাজ্য ভাবছে যে এতদিন পর অরূপ বিশ্বাস সাক্ষীদের ভয় দেখাবেন ?”