
কলকাতা: প্রায় ৪০-৫০ বছর ধরে দমদমে কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে মসজিদে রয়েছে নমাজ পড়ার ব্যবস্থা। গত ১১ জুলাই থেকে সেই নমাজ বন্ধ রয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি থাকার কথা জানিয়ে নমাজ বন্ধ করে দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সেই মসজিদে ধর্মাচরণের অনুমতি পেতে মামলা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। বৃহস্পতিবার সেই মামলায় সওয়াল-জবাব শেষে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল না হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ।
বিমানবন্দরের অন্দরে মসজিদে নমাজ পড়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “সরকার কাউকে ধর্মপালনে কোনওরকম বাধা দিচ্ছে না। তবে জাতীয় সুরক্ষা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আগে দেখতে হবে।”
কলকাতা বিমানবন্দরে ৮ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে নমাজ পড়তে যেতে হত। সেই নমাজই আপাতত বন্ধ রয়েছে। বুধবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে আইনজীবী কিশোর দত্ত উল্লেখ করেন, যে মসজিদে ৪০-৫০ বছর ধরে প্রার্থনা হয়, সেখানে নমাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওই জমি এখনও অধিগ্রহণ হয়নি বলে দাবি করেছেন কিশোর দত্ত।
একেবারে প্রার্থনা বন্ধ করে দেওয়া অন্যায় বলে দাবি করেন কিশোর দত্ত। তাঁর বক্তব্য, গত ৫০ বছরে নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হলে, এখন কেন সেই প্রশ্ন উঠছে! নিয়ন্ত্রণ রেখেই আপাতত যাতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়, সেই আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
বিমানবন্দরের তরফে আইনজীবী গোপাল মুখোপাধ্যায় জানান, ওই মসজিদে শুধুমাত্র প্রার্থনা নয়, হয় বৈঠকও। রানওয়েতেও লোক ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। নিরাপত্তার সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। কেন্দ্রের তরফেও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যার কথা বলা হয় হাইকোর্টে।
এরপরই বিচারপতি রাও ইজরায়েলের বিমান হাইজ্যাক হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন বিচারপতি। তিনি বলেন, “এখন এই নিরাপত্তার ফাঁক গোটা বিশ্বে। কাল দুবাইয়ের ফ্লাইটের ঘটনা দেখুন।” আপাতত এই মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আগামী ৭ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।