Calcutta High Court: উলুবেড়িয়া-ফুলেশ্বরের মাঝে পড়ে গিয়ে মৃত্যু, রেলের সব যুক্তি খারিজ করে ৮ লক্ষ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ

High Court on Rail Compensation: হাইকোর্টে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, সিগন্যাল লাল থাকায় ট্রেনটি উলুবেড়িয়া ও ফুলেশ্বরের মাঝে থেমে যায়। মহিলার স্বামী ও দুই সন্তান নেমেও যান। তিনি যখন নামার চেষ্টা করছিলেন, তখন ট্রেনটি চলতে শুরু করে, ফলে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। তাঁকে প্রথমে উলুবেড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে স্থানান্তরিত করা হয়।

Calcutta High Court: উলুবেড়িয়া-ফুলেশ্বরের মাঝে পড়ে গিয়ে মৃত্যু, রেলের সব যুক্তি খারিজ করে ৮ লক্ষ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ
Image Credit source: TV9 Bangla

Sep 18, 2026 | 1:47 PM

কলকাতা: ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে স্ত্রীর। তাই রেলের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন স্বামী। বেশ কিছু যুক্তি দিয়ে সেই ক্ষতিপূরণের দাবি খারিজ করে দেয় রেল। কিন্তু হাইকোর্টে টিকল না রেলের যুক্তি। কোনও অজুহাত না দিয়ে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর বেঞ্চে চলছিল ওই মামলা।

ঠিক কী ঘটেছিল

সুকুমার মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি আবেদন করেছিলেন হাইকোর্টে। তিনি জানান, উলুবেড়িয়া ও ফুলেশ্বরের মাঝে ট্রেন যখন থেমেছিল, সেই সময় নামতে গিয়ে ট্রেন থেকে পড়ে যান তাঁর স্ত্রী। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ঝাড়গ্রাম থেকে হাওড়ার দিকে যাচ্ছিল ওই পরিবার।

হাইকোর্টে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, সিগন্যাল লাল থাকায় ট্রেনটি উলুবেড়িয়া ও ফুলেশ্বরের মাঝে থেমে যায়। মহিলার স্বামী ও দুই সন্তান নেমেও যান। তিনি যখন নামার চেষ্টা করছিলেন, তখন ট্রেনটি চলতে শুরু করে, ফলে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। তাঁকে প্রথমে উলুবেড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে স্থানান্তরিত করা হয়। ২০১২ সালের ৫ মার্চ হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান।

চলন্ত ট্রেন থেকে নামার চেষ্টা হয়েছিল, দাবি করে রেল

রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল এর আগে ক্ষতিপূরণের আবেদন খারিজ করে বলেছিল যে ঘটনাটি কোনও দুর্ঘটনা ছিল না। মৃত মহিলার ভুলেই ঘটনাটি ঘটেছিল। এছাড়া আবেদনকারী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে মৃত মহিলা একজন বৈধ যাত্রী ছিলেন। পুলিশ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে রেল দাবি করেছিল যে ট্রেন চলতে শুরু করার পর ওই যাত্রী নামার চেষ্টা করেছিলেন। আরও যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে আবেদনকারী তথ্য গোপন করেছেন এবং ট্রেনের টিকিটও দেখাতে পারেননি।

সুপ্রিম কোর্টের রায় উল্লেখ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ

কলকাতা হাইকোর্ট রায় দিয়েছে যে, ট্রেনে ওঠা বা নামার সময় কোনও যাত্রীর অসাবধানতাকে ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করতে পারে না রেল। ১৯৮৯ সালের রেলওয়ে আইনের ১২৪এ ধারা অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

যেদিন আবেদন জানানো হয়েছে, সে দিন থেকে ৯ শতাংশ সুদ সমেত ৪ লক্ষ টাকা অথবা ৮ লক্ষ টাকা (যেটা বেশি হবে), সেটাই দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রায়ও উল্লেখ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। একটি মামলায় শীর্ষ আদালত বলেছিল যে, ট্রেনে ওঠা বা নামার সময় মৃত্যু হলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বলে কেবল যাত্রীর অবহেলার অজুহাত দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ট্রেনের টিকিট উদ্ধার না হওয়া সংক্রান্ত রেলের যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেছে হাইকোর্ট।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us