
কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআরে আপাতত কোনও পদক্ষেপ নয়। রাজ্যে সরকার বদলের পর প্রায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মামলা দায়ের হয়েছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে। ভবানীপুর, কালীতলা, বিষ্ণুপুর সহ একাধিক থানায় মামলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই সব মামলা নিয়েই বৃহস্পতিবার অন্তর্বতী নির্দেশ দিল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ।
আগামী ৬ অগস্ট ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে। আদালতের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে এই অন্তর্বতী স্থগিতাদেশ। এদিনের শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “অনেক এফআইআর হয়েছে। একটার পর একটা মামলা না করে একটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। আদালত তদন্তকারীকে বাধা দেবে না। কিন্তু পদক্ষেপ করার কী দরকার আছে?”
বিচারপতি প্রশ্ন তুলেছেন, ঘটনার ছয়-সাত বছর কীভাবে একের পর এক এফআইআর করা হচ্ছে? অভিষেকের আইনজীবী শঙ্করায়ণ জানান, ৪-মের পর বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে প্রচুর এফআইআর (FIR) হয়েছে। গত ২ মে অভিষেক কী মন্তব্য করেছিলেন, তা নিয়ে ২৫ মে কেন অভিযোগ দায়ের করা হল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন আইনজীবী।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস হেরেছেন দুবার। তিনি কয়েক বছর পর এফআইআর করছেন। এপ্রিলে করা মন্তব্যের জেরে যে জুনে এফআইআর হয়েছে, সে কথাও জানিয়েছেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে বলেছেন, ২০১৭-র ঘটনায় সাত বছর পর অভিযোগ দায়ের, ২০২০ সালে আমফানের ঘটনার ৬ বছর পর এফআইআর হয়েছে।
আইনজীবী এম ভি রাজু এদিন উল্লেখ করেন, “শুভেন্দু অধিকারীর সময় যে নির্দেশ ছিল, সেটা অন্তর্বতী নির্দেশ ছিল।”
বিচারপতি বলেন, “ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা ভেবে কিছু আর্জি করবেন না। ভবিষ্যতের কথা ভেবে কোনও নির্দেশ দেব না। শুধু দায়ের হওয়া এফআইআরে সীমাবব্ধ থাকুন।” আইনজীবী তুষার মেহতা প্রশ্ন করেন, “কেউ একজন স্পেশাল ট্রিটমেন্ট পাবে কেন? আগাম জামিন নিক।”
বিচারপতি বলেন, “কিন্তু কোনও সাধারণ মানুষের এফআইআর এভাবে অনেকটা সময় পর হয় না। মামলাকারীকে গ্রেফতার না করে তদন্তের নির্দেশ দিলে কী অসুবিধা আছে?” এস ভি রাজু বলেন, “এফআইআর হয়নি। কারণ প্রভাবশালী ছিলেন। গ্রহণযোগ্যতা নেই এই মামলার।” বিচারপতি বলেন, “কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না।”